ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী বলেছেন, নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদকে মাথা তুলতে দেওয়া হবে না। শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সংগঠনটির ফ্যাসিবাদবিরোধী পদযাত্রার আগে সমাবেশ হয়; সেখানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাযহারী বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যাঁরা একসঙ্গে লড়ে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন বিভাজনের রাজনীতিতে জড়িয়েছেন। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে এবং তাতে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর মতে, অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধারাই বিভক্তির রাজনীতি করলে সেই আন্দোলনের চেতনা প্রশ্নের মুখে পড়বে; নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার জন্য ক্যাম্পাস অশান্ত করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কারও কারও কর্মকাণ্ড অতীতে ছাত্রলীগের ভূমিকার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

ছাত্র জমিয়ত সভাপতি বলেন, কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় ক্যাম্পাসে দখলদারি, সন্ত্রাস বা শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের অধিকার দেয় না। ছাত্রলীগের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁরা রাজপথে লড়েছেন; এখন অন্য কোনো সংগঠন একই রকম আধিপত্য দেখালে ছাত্র জমিয়ত তারও বিরোধিতা করবে বলে জানান তিনি।

ছাত্রসংগঠনগুলোকে ভুল বোঝাবুঝি আলোচনায় মিটিয়ে সংঘাত এড়ানোর আহ্বান জানান মাযহারী। তাঁর ভাষ্য, দমন-পীড়ন, বৈষম্য ও স্বৈরাচারী রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসানই ছিল অভ্যুত্থানের মূল চাওয়া; তাই পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি মেনে নেওয়া হবে না।

সমাবেশ শেষে মসজিদের উত্তর গেট থেকে বের হওয়া পদযাত্রাটি পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে আসে। এতে ছাত্র জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুহাম্মদ নুর হোসাইন এবং জমিয়তের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।