জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেছেন, সবার সহযোগিতা পেলে সরকার দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে। শনিবার (১৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে যে আলোচনা সভার আয়োজন করে, তাতে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় দেশের গ্যাসের ৯৮ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছিল বিশেষ একটি দেশের হাতে। তার দাবি, সেই সরকারের এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত আর জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার ফলেই এখন গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, অতীতেও বিএনপি দেশকে নানা সংকট থেকে বের করে স্থিতিশীল করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশের দায়িত্ব নিয়ে মাত্র তিন বছরে তিনি দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারকে পরিণত করেছিলেন; একইভাবে বর্তমান সরকারও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে মজবুত ভিত্তি দিতে পারবে, তবে সে জন্য সবার সহযোগিতা দরকার।
তিনি দাবি করেন, আগের শাসনামলে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দিয়ে কয়েকটি জাতীয় বাজেট দেওয়া যেত। অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘদিন পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছে মন্তব্য করে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন তিনি।
নূরুল ইসলামের মতে, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও গণতন্ত্র যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি; এ জন্য মানুষের খাদ্যের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তার অভিযোগ, স্বৈরাচার শুধু বাকস্বাধীনতাই কেড়ে নেয়নি, মানুষের আশা আর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্নও পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করেছে।
চিফ হুইপ দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় গত সাড়ে ৫ মাসে মানুষের দুর্ভোগ ও হাহাকার আগের চেয়ে কমেছে। তিনি জানান, জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলোকে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারী সভায় সভাপতিত্ব করেন; অভিনেতা বাবুল আহমেদসহ দলের নেতারা বক্তব্য দেন। রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজন, সাংবাদিক এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।






