ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলা, লাঠিচার্জ ও গুলি চালিয়েছে অভিযোগ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মাওলানা মূসা বিন ইযহার। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিবৃতিতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির এই মহাসচিব বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের জবাবে সংলাপের বদলে রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, গান বাজানোর প্রতিবাদ ঘিরে সংঘর্ষ ও শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনা দুঃখজনক ও উদ্বেগের। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব; মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তারও জবাবদিহি থাকতে হবে, কারণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগকারী কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে, শিক্ষার্থীদের ওপর কোন ধরনের বলপ্রয়োগ হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ কতটা আইনসম্মত ছিল—স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তে দ্রুত তা জাতির সামনে স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
মাদ্রাসাছাত্ররাও দেশের নাগরিক এবং অন্য শিক্ষার্থীদের মতো তাদেরও জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের সমান অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি অবজ্ঞা বা বৈষম্য রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষতি করে।
আহতদের সুচিকিৎসা এবং নিরপেক্ষ তদন্তে দায়ীদের চিহ্নিত করে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন মূসা বিন ইযহার। তার মতে, রাষ্ট্র ও জনগণের সম্পর্কের ভিত্তি আস্থা ও ন্যায়বিচার; লাঠি-গুলিতে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের জবাব দিলে রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনকে আরও সংযত ও মানবিক হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সংঘর্ষটি ঘটে ১৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম মেড্ডার পুলিশ লাইনসের ভেতরে। সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে; এতে মাদ্রাসাছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।






