রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত শ্রমিক দল নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক রাসেল মারা গেছেন। জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসনকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১টা ৩৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে হামলার ঘটনায় রাসেলের স্ত্রী শিরিন আক্তার বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন।

গত ১৩ আগস্ট রাত ৮টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাসেলের ওপর হামলা হয়। মামলাটির প্রধান আসামি জাহিদ হোসেন মোড়ল, যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এজাহারে ২১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শিরিন আক্তারের অভিযোগ, জাহিদ মোড়লের (মোহাম্মদপুরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল নেতা) নির্দেশে তার লোকজন হাসপাতালের সামনে রাসেলকে কুপিয়ে জখম করে, পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হত্যাচেষ্টা মামলার পর হুকুমদাতা হিসেবে অভিযুক্ত জাহিদ মোড়লসহ অনেকে আদালত থেকে জামিন নেন বলেও জানান তিনি।

তার দাবি, রাসেল ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু জাহিদ মোড়ল তাকে প্রার্থী হতে নিষেধ করেন। শিরিনের অভিযোগ, নিষেধ না মানায় এবং ওই পদে নিজের সিন্ডিকেটের লোক বসাতেই রাসেলকে সরিয়ে দিতে এ হামলা চালানো হয়েছে। যারা তার স্বামীকে হত্যা করেছে, তাদের বিচার দাবি করেছেন তিনি।

মামলার এজাহারে শিরিন আক্তার উল্লেখ করেন, তার স্বামী পেশায় ব্যবসায়ী। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জাহিদ হোসেন মোড়ল আগে থেকেই রাসেলের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং অন্য আসামিদের সঙ্গে মিলে তাকে প্রাণে মারার পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদ মোড়লের নির্দেশে হামলাকারীরা সামুরাই, চাপাতি ও লোহার রড হাতে রাসেলের ওপর চড়াও হয়। ৬ নম্বর আসামি মনির হোসেন শান্তর সামুরাইয়ের কোপ ঠেকাতে গিয়ে রাসেলের ডান হাতের কনুই এবং ৭ নম্বর আসামি পাপ্পুর চাপাতির আঘাত ঠেকাতে গিয়ে বাম হাতের তিনটি আঙুল গুরুতর জখম হয়। রাসেলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সরে পড়ে বলেও এজাহারে উল্লেখ আছে।