দেশে ঘটে যাওয়া প্রতিটি গুমের ঘটনার তদন্ত করে সরকার বিচারের কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস সামনে রেখে শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রকাশিত বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
বাণীতে দেশ-বিদেশের সব গুম হওয়া মানুষ ও তাদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান প্রধানমন্ত্রী। গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সকে তিনি বিশ্বের জঘন্যতম অপরাধগুলোর একটি এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেন; তার ভাষায়, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কখনো কখনো বিরোধী আন্দোলন ও ভিন্নমতের নেতাদের দমনে এই পথ বেছে নেয়।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমনে গুম-অপহরণের পথ নিয়েছিল এবং বন্দিদের মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা গড়েছিল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে ওই সরকার অন্তত সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে।
তারেক রহমান জানান, ভবিষ্যতে গুম ঠেকাতে সরকার আলাদা আইনি কাঠামো তৈরি করছে; এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলগুলো আইনে পরিণত হলে কেউ আর এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের পথে হাঁটবে না বলে সরকার আশা করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কেবল একটি সংখ্যা বা একজন মানুষের হারিয়ে যাওয়া নয়, এতে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ থমকে যায়; স্বজনেরা অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষায় দিন কাটান, স্বাভাবিকভাবে শোক পালনের সুযোগও পান না। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অনেকের খোঁজ আজও মেলেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদ যে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ফেলেছে, সে কথা বাণীতে স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী; এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’। বাণীর শেষে তিনি এই অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির ডাক দেন।






