এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কটু ভাষার জবাব একই ধরনের ভাষায় দেওয়া তার ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন মো. রাশেদ খাঁন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই রাজনৈতিক সহকারী বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে এ কথা লেখেন।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অতীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে তুইতোকারি করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন। তার জবাব দিতে গিয়েই কয়েক মাস আগে অসাবধানতাবশত একটি আপত্তিকর উদাহরণ টেনেছিলেন তিনি।

রাশেদ খাঁনের দাবি, পাটওয়ারী ন্যূনতম পরিশীলিত রাজনীতি করলে তাকে এমন উদাহরণ দিতে হতো না; পাটওয়ারী তাকে নিয়েও অশ্রাব্য কথা বলায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ তিক্ততায় রূপ নেয়। তিনি আরও জানান, পরস্পরের বিরুদ্ধে না বলতে পাটওয়ারী তাকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পরই সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙেন।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের যোগ্যতা নিয়েও পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তবু দেশ-বিদেশের বহু শুভাকাঙ্ক্ষী মনে করেন, ওই ভাষার জবাব একই ভাষায় দেওয়া তার ঠিক হয়নি। তার ভাষ্য, প্রতিক্রিয়াটি ছিল টিট ফর ট্যাটের মতো, অথচ ২০২৪-পরবর্তী রাজনীতিতে তারা দেশ গঠন, মানবিক মর্যাদা ও বৃহত্তর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে চেয়েছেন।

এ কারণে নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষাগত ভুল প্রত্যাহার করে ভবিষ্যতে শুধরে চলার অঙ্গীকার করেন তিনি। গঠনমূলক সমালোচনার সঙ্গে সহনশীল ও মার্জিত রাজনীতির সুযোগ তৈরিরও আহ্বান জানান রাশেদ খাঁন।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকেই ভাষা ব্যবহারে সংযত ও সহনশীল থাকার চেষ্টা করে আসছেন, যা অব্যাহত থাকবে। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘ঘৃণা ছড়িয়ে আমরা কেউই লাভবান হতে পারব না’; তার মতে, এতে কেবল বিরাজনীতিকরণের অপেক্ষায় থাকা গোষ্ঠীরই উপকার হবে।