অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কারও কারও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার সন্দেহ, দুদকের কেউ কেউ আসিফ মাহমুদকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন কি না।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাশেদ খাঁন। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, যিনি রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমানসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে ছিলেন। রাশেদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে আসিফ মাহমুদ কতটা দুর্নীতি করেছেন, সে বিষয়ে তার কাছে তথ্য আছে।

রাশেদের ব্যাখ্যা, আসিফের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পেজে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছিল, দুদকের এক কর্মকর্তার বক্তব্যে সেই একই তথ্য আসা এবং শব্দ বাছাইয়ে ভুল থেকেই মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেউ আসিফের পক্ষে বয়ান তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছেন কি না। তার যুক্তি, আসিফ ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করলে তদন্তে সেটিই আসা উচিত; বাড়িয়ে এক হাজার কোটি বলা হলে সেই অপতথ্যের সুযোগে তিনি পার পেয়ে যেতে পারেন।

আসিফের বিরুদ্ধে কিছু ক্লু তার হাতে আছে এবং এসব নিয়ে আগে গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও হয়েছে বলে দাবি করেন রাশেদ। উপদেষ্টা থাকার সময় আসিফের এপিএস মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ টেনে তিনি বলেন, সহযোগী জড়িত থাকলে আসিফ নিজে দুর্নীতিমুক্ত থাকবেন, এমনটা হওয়ার কথা নয়; দুদকের যথাযথ তদন্ত প্রত্যাশা করেন তিনি। তবে কেউ যতটুকু অন্যায় করেছেন, তার বেশি ফাঁসানো বা বিচারের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।

এর আগে সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে নাম উল্লেখ না করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, ‘আজকাল তার নাম মুখে নিতে লজ্জা লাগে।’ তার অভিযোগ, এনসিপির ওই নেতা আওয়ামী লীগের এক নেতার প্রাডো গাড়িতে চড়ে চট্টগ্রামের লংমার্চে গিয়েছিলেন এবং ছাত্রদল-যুবদলকে উদ্দেশ করে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছিলেন।

রাশেদ বলেন, ঢাকা থেকে রংপুরে লংমার্চের নামে লংড্রাইভে আসার সময় জামায়াতের কাছ থেকে এমন উসকানি তারা প্রত্যাশা করেন না। তার দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রংপুর ও খুলনা বিভাগে প্রশাসন এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যাতে জামায়াতের প্রার্থীরা নির্বাচনে সুবিধা পান; জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ থাকলেও দলটির আমির শেষে ফল মেনে নিয়েছেন। জামায়াতের আমির ও নাহিদ ইসলাম আসলেই জিতেছিলেন কি না, তা নিয়েও মানুষের প্রশ্ন আছে বলে দাবি করেন তিনি, তবে এগুলোকে নিজের সন্দেহ হিসেবেই উল্লেখ করেন।