জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে দরকার হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। ট্রাইব্যুনাল চালু আছে এবং চালু থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক খুনির বিচার করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা মাঠে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। ঢাকা-৬ আসনের সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতয়ালী ওয়ার্ডের উদ্যোগে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার প্রতিবাদে সমাবেশটি হয়; এতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা দেশে গণহত্যা চালিয়ে মানুষের বুকে গুলি করেছে, তাদের ক্ষমা নেই; গত ১৭ বছরের গুম-খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদেরও বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তার অভিযোগ, বিগত সরকার বিনা ভোটে পরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, আর স্বাধীনতার পর দেশবাসী এর চেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়নি; সেই বাহিনী ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশে আর কখনো রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন তিনি।

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিয়মিত জুম মিটিং করে কর্মীদের চাঙা রাখার চেষ্টা করছেন; তারা চান শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও সহযোগীদের ফেরত চেয়ে ভারতকে অনুরোধ করা হলেও সাড়া মেলেনি; দেশে তাদের বিচার হয়েছে, তবে আপিল করতে চাইলে সে সুযোগ দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

বিরোধী দলগুলোর এক দফা আন্দোলন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণত কোনো সরকারের চার বছর পর কঠোর আন্দোলন দেখা যায়, অথচ মাত্র সাত মাস বয়সী সরকারের বিরুদ্ধে লং মার্চ ডাকার মতো কী ব্যর্থতা দেখা দিল, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে তারা রাস্তায় নেমেছে, যা নিয়েও জনগণের ভাবা উচিত বলে মনে করেন তিনি। ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে জন্য স্থিতিশীলতা রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহত করা ও সাংবিধানিক পরিবর্তন আনতে চায় বিএনপি, বলেন তিনি।

দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশসহ অনেক দেশে তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে; আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও কমানো হবে, এটি সরকারের প্রতিশ্রুতি। ফ্যাসিবাদের পতনের সময়ের মতো গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভবিষ্যতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার, সাইদুর রহমান মিন্টু, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন এবং কাজী আবুল বাশার (বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণবিষয়ক সহসম্পাদক)। দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সমাবেশে অংশ নেন।