বিশেষ ধরনের লোহার চাবি দিয়ে কয়েক সেকেন্ডে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরি করে আসা একটি চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। তাদের কাছ থেকে লক ভাঙার দুটি চাবিসহ মোট ৯টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মো. আকতার হোসেন রোববার (১৮ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
ডিবি-লালবাগ বিভাগ জানায়, গত ২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে মোটরসাইকেল তালা দিয়ে রেখে আসরের নামাজ পড়তে যান এক ব্যক্তি। সেই সুযোগে চক্রের সদস্যরা বিশেষ চাবি দিয়ে কয়েক সেকেন্ডে লক ভেঙে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালায়। চুরির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হলে গোয়েন্দারা ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সাহায্যে জড়িতদের শনাক্ত করেন।
পরে সবুজবাগ থানার নন্দীপাড়া ও মাদারটেকে অভিযান চালিয়ে দুটি বিশেষ চাবি এবং চুরি যাওয়া একটি মোটরসাইকেলসহ রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেলকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্যে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেটের সামনে থেকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ধরা পড়েন মো. আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি (৩০)। এরপর কুমিল্লার লাকসাম থেকে চারটি মোটরসাইকেলসহ ফয়সাল (২৫) ও সৌরভকে (২২) এবং নোয়াখালীর চাটখিল থেকে তিনটি মোটরসাইকেলসহ জাহাঙ্গীর আলম পাপ্পু (২৯) ও মোজাম্মেল হক মাসুমকে (২২) গ্রেপ্তার করা হয়; জব্দ হয় চুরিতে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি জানিয়েছে, রাজধানীর নানা জায়গা থেকে একই কৌশলে মোটরসাইকেল চুরি করে তারা লাকসামের ফয়সাল ও সৌরভ এবং চাটখিলের পাপ্পু ও মাসুমের কাছে পৌঁছে দিত। রাসেলের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল চুরির ১৫টি এবং রাব্বির বিরুদ্ধে চুরির ৭টি মামলা রয়েছে; রাসেলের নামে একটি জিআর সাজা পরোয়ানাও মুলতবি আছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।






