বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের মালয়েশিয়া শাখার সাংগঠনিক অবস্থা অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদকে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদার এই নেতাকে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ১৫ দিনের মধ্যে তথ্যচিত্রসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় দপ্তরে দিতে বলা হয়েছে।
জাগো নিউজের প্রবাস বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার, ২৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ দায়িত্বের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে মুরাদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে মালয়েশিয়া শাখার সাংগঠনিক কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির বিস্তারিত পর্যালোচনা করে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। অনুসন্ধান শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় দপ্তরে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জাগো নিউজ জানিয়েছে, মালয়েশিয়া যুবদলের কাজে গতি আনা এবং মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম কী অবস্থায় আছে, তা মূল্যায়নের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করাও এর উদ্দেশ্য।
সেপ্টেম্বরে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে মালয়েশিয়া যুবদলের ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সাধারণ সম্পাদক হন মো. রমজান আলী। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এ কমিটির অনুমোদন দেন।
পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটির পরিসর বাড়ে। কেন্দ্রীয় যুবদলের অনুমোদিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির কমিটিতেও সভাপতি ছিলেন জসিম উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন রমজান আলী। মো. সুলতান বিন সিরাজকে তখন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিস্তার এবং সংগঠনকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে পরে ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়। এই কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতির দায়িত্ব পান মো. নূর সিদ্দিকী সুমন।
সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান শেখ মোহাম্মাদ সেলিম, নাজমুল হাসান, খালিদ হাসান রিপন, হেলাল উদ্দিন হাই, কে এম সবুজ, মো. শাহীন আলম, ইউসুফ মজুমদার, মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং মো. বোরহান উদ্দিন (তালেব মেলা)।
একই পদে আরও রয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, নাছির উদ্দিন মোল্লা, মো. কামরুজ্জামান শান্ত, তোরাবক হোসেন রানা, এআর মাসুদ, আক্তার হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, জালাল শেখ, মো. মিজানুর রহমান বেপারী ও আব্দুল হাকিম।
পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদে মো. রমজান আলী এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সুলতান বিন সিরাজ বহাল থাকেন। এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে একাধিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
শৃঙ্খলা নিয়ে আগের নির্দেশনা
পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের এক দিন আগে, ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন একটি নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেন। সেখানে সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ওই নির্দেশনায় সাংগঠনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে বলা হয়। তা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুরাদের অনুসন্ধান থেকে মালয়েশিয়া যুবদলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিস্তারিত ধারণা পেতে পারে। তবে অনুসন্ধানের ফল কিংবা পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কেন্দ্রীয় যুবদল চূড়ান্ত কোনো তথ্য জানায়নি।
Source: জাগো নিউজ২৪






