মিশরের রাজধানী কায়রোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় সংগীত বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। মিশনে কর্মরত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এর পর দূতাবাসের সম্মেলনকক্ষে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয় এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
এ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় মিশরের বিখ্যাত আল আজাহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ইত্তিহাদ’-এর সভাপতিসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা বক্তব্য দেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে।
চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তাঁর বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার বিপ্লবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন এবং তাদের অসামান্য অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
গৌতম কুমার দে উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ক্ষমতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার সাহস ও আত্মত্যাগ জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য এক বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি মতামত ব্যক্ত করেন, ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনে গণমানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং এই উদ্যোগে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখা উচিত।
আলোচনা সভা শুরুর আগে দিবসটি উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে মিশরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তা, অধ্যাপক, নারী উদ্যোক্তা, বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী এবং বাংলাদেশি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়।
Source: জাগো নিউজ২৪






