মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখর আরাফাতের পাহাড়ঘেরা ময়দান, তালবিয়ার উচ্চকণ্ঠে প্রতিমুহূর্তে ঘোষিত হচ্ছে আল্লাহর একত্ব ও মহত্ত্ব। ফজরের পর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক এই প্রান্তরে সমবেত হয়েছেন, সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা এখানেই থাকবেন।

পাপমোচন ও আত্মশুদ্ধির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ পালন করছেন তারা। প্রায় ৪ বর্গমাইলের এই বিশাল সমতল মাঠের উত্তরে সাদ পাহাড়, দক্ষিণে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড; পশ্চিমে আরাফাতের সীমানা আরও প্রায় পৌনে এক মাইল বিস্তৃত। পছন্দমতো জায়গা বেছে নিয়ে হাজিরা দিনভর ইবাদত, খুতবা শোনা আর জোহর ও আসরের নামাজে কাটাবেন।

জোহরের আগে আরাফাতের মসজিদে নামিরা থেকে এবারের খুতবা দেবেন শায়েখ ড শেখ আলী বিন আবদুর রহমান হুজাইফী, যিনি মদিনা মনোয়ারার ইমাম ও খতিব। মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববির জেনারেল প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, খুতবার অনুবাদ এবার বিশ্বের ৫০টি ভাষায় প্রচার হবে। বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজের তত্ত্বাবধানে নেওয়া এ উদ্যোগ হজের খুতবা অনুবাদের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প; এসপিএর খবর অনুযায়ী, বাংলা ও উর্দুসহ ৫০টি ভাষাভাষী মানুষের কাছে খুতবার আহ্বান পৌঁছে দেওয়াই এর লক্ষ্য।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত ছেড়ে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে এশার ওয়াক্তে মাগরিব ও এশা একসঙ্গে আদায় করে রাত কাটাবেন এবং মিনায় জামরাতে নিক্ষেপের জন্য ৭০টি কংকর সংগ্রহ করবেন। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ শেষে তারা আবার মিনার পথে রওনা হবেন।

১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছে হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সারতে হয়: জামারায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, আল্লাহর উদ্দেশে পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন ও তাওয়াফে জিয়ারত। মিনায় সম্ভব না হলে অনেকে মক্কায় ফিরে কোরবানি দেন। ১১ জিলহজ মিনায় রাত কাটিয়ে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের প্রতিটিতে সাতটি করে পাথর মারবেন তারা।

এর আগে সোমবার সারা দিন ও রাত হাজিরা মিনায় কাটান, সেখান থেকেই শুরু হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের মিনায় লাখ লাখ তাঁবু বসানো হয়েছে, প্রত্যেকের জন্য সেখানে আলাদা ফোম, বালিশ ও কম্বল রাখা হয়েছে। হজ ঘিরে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও আশপাশে লাখো নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার।

এদিকে সৌদিতে তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, প্রচণ্ড গরমে কষ্টে আছেন হাজিরা; হিট স্ট্রোকসহ গরমজনিত অসুস্থতা সামলাতে চারটি হাসপাতাল তৈরি রাখা হয়েছে এবং হাজিদের সতর্ক থাকতে বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ ৭৯ হাজার ১৬৪ জন হজে গেছেন।