সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট সেবা বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে অভিযোগ তুলে এর বিরোধিতা করেছেন রিয়াদপ্রবাসী সচেতন বাংলাদেশিরা। সিদ্ধান্তটি বাতিলের দাবিতে রিয়াদের হোটেল ডি প্যালেসের হলরুমে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তাঁরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

আয়োজকদের অভিযোগ, দুবাই, কাতার ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে থাকা প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক ও ব্যক্তিগত তথ্য বিদেশি কোম্পানির হাতে চলে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জানুয়ারিতে কিছু সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন ছেপেছিল, আর আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই খবর ছড়ায় বলে জানান তাঁরা।

বক্তাদের ভাষ্য, সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কাজ করেন এবং তাঁদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন প্রদেশে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু আছে। সেবাটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গেলে প্রবাসীদের তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা। এখনকার যুদ্ধ শুধু অস্ত্রের নয়, তথ্যেরও—এ কথা উল্লেখ করে বক্তারা নাগরিকের পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্যকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বলে অভিহিত করেন, যার সুরক্ষা রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব।

তাঁদের দাবি, পাসপোর্ট সেবা দেশি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালানো হোক; এতে তথ্য নিরাপদ থাকবে, দেশে কর্মসংস্থানও বাড়বে। এমন সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে দেশের ভাবমূর্তি, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রবাসীদের তথ্য সুরক্ষার কথা ভেবে সরকারকে তা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান তাঁরা।

এ দাবিতে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানান, রাষ্ট্রদূত সেটি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন। তবে তথ্য হস্তান্তর বা এমন কোনো পাইলট প্রকল্প নিয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন কমিউনিটির প্রবীণ সাংবাদিক নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ ভূইয়া, মো. আবুল বশির, মোহাম্মদ শাহজালাল ভুট্টো, মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সিহাব শাহিন ও হাসান মাহমুদসহ অনেকে।