সৌদি বাজারে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এসএমই) প্রিমিয়াম পণ্য পরিচিত করাতে জেদ্দায় হয়ে গেল সেমিনার ও পণ্য প্রদর্শনী। ‘বাংলাদেশ এসএমই শোকেস: প্রিমিয়াম প্রোডাক্টস ফর সৌদি মার্কেট’ শিরোনামের এ আয়োজন একটি পাঁচতারকা হোটেলে করে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, সহযোগিতায় ছিল এসএমই ফাউন্ডেশন।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন কনস্যুলেটের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর সৈয়দা নাহিদা হাবিবা। এসএমই ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. নাজিম হাসান সাত্তার খাতটির সম্ভাবনা, পণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর কৌশল তুলে ধরেন। প্রদর্শিত পণ্যগুলোতে সৌদি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা বিশেষ আগ্রহ দেখান।

কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, সৌদি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা ও সম্ভাবনা ব্যাপক; এমন শোকেস উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগ গড়ার পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

জেদ্দা চেম্বার অব কমার্সের পক্ষে বলেন সংগঠনটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল বন্দর রেদা। তিনি জানান, মানসম্মত পণ্য আমদানিতে চেম্বার আগ্রহী; সৌদি বাজারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা বাড়াতে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

অনলাইনে যুক্ত হন সৌদি-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স, এফবিসিসিআই, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের শীর্ষ এসএমই উৎপাদক, রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তারাও অংশ নেন। সেমিনারে সরাসরি ছিলেন সৌদি-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম, সৌদি ফেডারেশন অব চেম্বার্স ও জেদ্দা চেম্বারের প্রতিনিধিসহ সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা।

আলোচনায় হস্তশিল্প, পাটজাত ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাতের প্রিমিয়াম পণ্যের সৌদি বাজারে অবস্থান শক্ত করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে মিল রেখে রপ্তানি বহুমুখী করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদারের তাগিদ দেন বক্তারা। অংশগ্রহণকারীদের আশা, এমন আয়োজনে সৌদি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পণ্যের পরিচিতি ও আস্থা বাড়বে এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে তা মাইলফলক হতে পারে।