পবিত্র মক্কা মুকাররমাসহ সৌদি আরবের নানা শহর লক্ষ্য করে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা ও সামরিক তৎপরতার কঠোর সমালোচনা করেছে সৌদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতি বাংলাদেশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, মক্কার নিরাপত্তা ও পবিত্রতাকে নিশানা করা যেকোনো সামরিক তৎপরতা গোটা মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় অনুভূতিতে বড় আঘাত।

সংগঠনটির ভাষ্য, মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফ সারা বিশ্বের মুসলমানদের কিবলা এবং কোটি কোটি মানুষের ঈমান ও আত্মিক বন্ধনের কেন্দ্রবিন্দু। এ কারণে নগরীটির নিরাপত্তা বা পবিত্রতা বিপন্ন করে এমন কোনো হুমকি বা সামরিক ঝুঁকি মেনে নেওয়া যায় না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতির তথ্যমতে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মক্কা মুকাররমার দক্ষিণে হুতিদের একটি ড্রোন নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়। সংগঠনটি মনে করিয়ে দেয়, ২০১৭ সালেও মক্কার দিকে হুতিরা একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল; সাম্প্রতিক ঘটনা পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো উদ্বেগ আবার সামনে এনেছে।

কোরআনের সূরা আল-হাজ্জ ও সূরা আলে ইমরানের আয়াত এবং মক্কার পবিত্রতা নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষণার কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এমন কর্মকাণ্ড শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন। সংগঠনটির ভাষায়, ‘মক্কা মুকাররমা কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়’।

পবিত্র স্থান, বেসামরিক মানুষ, হজ ও ওমরাহ পালনকারী এবং ধর্মীয় স্থাপনার সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে হামলা ও সামরিক উত্তেজনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নিতে এবং আঞ্চলিক সংঘাত যেন পবিত্র নগরী ও সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি না হয়ে ওঠে, সেদিকে নজর দিতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি এবং পবিত্র দুই মসজিদের সুরক্ষার প্রশ্নে সংহতি জানানো হয়, আর হুতিদের সহিংসতা ছেড়ে দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বলা হয়। সংগঠনের পক্ষে বিবৃতিতে সই করেন প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ ওয়ালি উল্লাহ, প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া, ড. শহীদুল্লাহ খান মাদানী, ড. আব্দুল্লাহ আল কাফি ও ড. হারুন অর রশীদ ত্রিশালী প্রমুখ।