বাংলাদেশের পেস আক্রমণের উন্নতির পুরো কৃতিত্ব নাহিদ রানার আবির্ভাবকে দেওয়া ঠিক হবে না বলে মনে করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ইয়ান বিশপ। তাঁর মতে, তাসকিন আহমেদের দীর্ঘদিনের উন্নতি, হাসান মাহমুদের বোলিং এবং বোর্ডের পরিকল্পনা—সব মিলিয়েই বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে এই পরিবর্তন এসেছে।

বৃহস্পতিবার মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা চলাকালীন বিরতিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ধারাভাষ্য দিতে ঢাকায় আসা বিশপ।

বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের উন্নতি নিয়ে প্রশ্ন শুনে রসিকতার সুরেই তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, আপনাদের সবার কাছেই এটি খুব পরিচিত প্রশ্ন। কে আগে প্রশ্নটা করতে পেরেছেন, তিনিই যেন জিতে গেছেন!’

এরপর বাংলাদেশের পেসারদের উন্নতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হাসান মাহমুদের বোলিংয়ের সময়কার একটি দৃশ্যের কথা তুলে ধরেন বিশপ। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার হাসান মাহমুদ বোলিং করার সময় স্লিপে তিনজন ও গালিতে একজন ফিল্ডার রেখে তাঁরা একটি রেকর্ডিং করেছেন। এমন ফিল্ডিং সাজানো দেখে আগে হয়তো অস্ট্রেলিয়া কিংবা পুরোনো সময়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজের কথা মনে হতো, তবে এখন বাংলাদেশকেও এমনভাবে বোলিং করতে দেখা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এই পরিবর্তন বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয় বলে মনে করেন বিশপ। অতীতের পেসারদের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘একসময় তালহা জুবায়েরের মতো পেসার ছিলেন, যিনি এখন পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন, ছিলেন মাশরাফি মুর্তজার মতো ক্রিকেটার। আর এখন বাংলাদেশ দলে পাঁচ-ছয়জন পেসার আছেন, যাদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

বিদেশের মাটিতে টেস্ট জিততে হলে শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন বিশপ। তাঁর মতে, শুধু স্পিনার কিংবা একজন দ্রুতগতির বোলারের ওপর নির্ভর করে বিদেশের মাটিতে সাফল্য পাওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে টেস্ট জিততে হলে শুধু স্পিনার ও একজন দ্রুতগতির বোলারের ওপর নির্ভর করলে চলে না। একাধিক মানসম্পন্ন পেসার প্রয়োজন। বাংলাদেশের পেস বোলারদের খুঁজে বের করে একটি শক্তিশালী আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দল সঠিক পথেই এগিয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ ওটিস গিবসন, শন টেইটসহ আরও কয়েকজনের সহায়তাও ছিল।’

একসময় মিরপুরে খেলা হলে বেশিরভাগ ম্যাচে এক পেসার নিয়েই মাঠে নামত বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে এই দৃশ্য বদলে গেছে। মিরপুরে পেস বোলিংয়ের গুরুত্ব বাড়ার পেছনে নাহিদ রানার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিশপ মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশের পেস আক্রমণের উন্নতি তাঁর আবির্ভাবের পর শুরু হয়নি। বরং তাসকিন আহমেদের মতো পেসারদের দীর্ঘদিনের উন্নতিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নের উত্তরে বিশপ বলেন, ‘তবে এই পরিবর্তন কি নাহিদ আসার পরই শুরু হয়েছিল? তার আগেও তো এমনটা ছিল, তাই না?’

নাহিদের আগমনের পর পরিবর্তনের গতি বেড়েছে—এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তবে শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। বলবেন না যে নাহিদ আসার পরই সবকিছু শুরু হয়েছে। আমি তাসকিনকে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চিনি এবং তাকে বোলিং করতে দেখেছি। এই সময়ে সে অনেক উন্নতি করেছে। এরপর আছে এবাদত, এখন শরীফুলও আছে, যে এখনো নিজের জায়গা তৈরি করছে। হাসান মাহমুদকে আমি অসাধারণ লাইন বোলার মনে করি।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বিশপ আরও বলেন, ‘আবারও বলব, বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভেতরের সবকিছু আমি জানি না। তবে ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে জেতার উপযোগী পেস আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা করার জন্য বিসিবি কৃতিত্ব পেতে পারে। এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের মাটিতে এক বা দুটি উইকেটে যদি কিছুটা সিম মুভমেন্ট থাকে, তাহলে ব্যাটাররাও উপকৃত হবে। বিদেশের মাটিতে খেলতে গেলেও তারা নিজেদের ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারবেন।’

সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে নাহিদকে দেখতে চান বিশপ। তবে চোটের কারণে এই পেসার খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি।

বিশপ বলেন, ‘সামনেই তো দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ আছে। নাহিদকে সুস্থ অবস্থায় দেখতে চাই। সে খেলতে পারবে কি না, জানি না। তবে সে যদি ফিট থাকে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন ব্যাটারকে গতির সামনে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে, সেটা দেখতে দারুণ লাগবে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত সে খেলতে পারবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।’

Source: জাগো নিউজ২৪