আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে ই-টায়ারে রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবল দল। ১৮৯টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থান ১৩০তম।

কিশোর ফুটবলারদের এই সাফল্য উদযাপনের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। মঙ্গলবার দুপুরে বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠেয় এই সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

বুধবার সকালে কিশোর ফুটবল দলটি দেশে ফিরবে বলে জানানো হয়েছে।

আমন্ত্রণপত্রে যা লেখা আছে

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ দলকে ফিফা বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের রানার্সআপ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাফুফে। তবে দলটি মূল প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ নয়, হয়েছে ই-টায়ারের রানার্সআপ। ছয়টি টায়ারে বিভক্ত এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এই অর্জন এসেছে পঞ্চম স্থান নির্ধারণী পর্যায়ের লড়াই থেকে।

১৩০তম হওয়া একটি দলকে রানার্সআপ উল্লেখ করে কেন সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্নে আমন্ত্রণপত্রে স্বাক্ষর করা বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতার গঠন

ফিফা আয়োজিত এই প্রথম বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালে ১৮৯টি দেশের দল অংশ নেয়। শুরুতে ৩০টি গ্রুপে ভাগ হয়ে লিগ পদ্ধতিতে খেলেছে দলগুলো। বাংলাদেশ খেলেছিল ‘জি’ গ্রুপে। গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ওয়েলস, পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, বুরুন্ডি ও ফিজি।

গ্রুপপর্বে অবস্থানের ভিত্তিতে দলগুলোকে ছয়টি টায়ারে ভাগ করে শুরু হয় নকআউট পর্ব। ছয় দলের গ্রুপে পঞ্চম হওয়ায় বাংলাদেশ জায়গা পায় ই-টায়ারে।

ই-টায়ারে বাংলাদেশের যাত্রা

ই-টায়ারের রাউন্ড অব ৩২-এ সিশেলসের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে বাংলাদেশ।

শেষ ষোলোতে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও টাইব্রেকারে জয় পায় কিশোররা। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টিনিগ্রোকে ৪-০ গোলে এবং সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ই-টায়ারের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক। শিরোপা নির্ধারণী ওই ম্যাচে ৪-১ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে ই-টায়ারে রানার্সআপ হয়েই অভিযান শেষ করতে হয় কিশোরদের।

অন্য টায়ার ও আঞ্চলিক তুলনা

প্রতিযোগিতার মূল টায়ারে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। ফাইনালে তারা চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে। মূল টায়ারে তৃতীয় হয়েছে গ্রিস এবং চতুর্থ হয়েছে প্যারাগুয়ে। এছাড়া অন্য পাঁচটি টায়ারেও আলাদা চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল ভারত। তবে ভুটান, পাকিস্তান, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।

Source: জাগো নিউজ২৪