শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে বাড়িতে গিজার কেনার পরিকল্পনা করেন অনেকেই। কিন্তু পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম হলে কত লিটারের গিজার কিনবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকে। কেউ ধারণক্ষমতা বেশি এমন গিজার কিনে ফেলেন, আবার কেউ কম ক্ষমতার মডেল কিনে পরে গরম পানির সংকটে পড়েন। জাগো নিউজের প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিজারের আকারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পানির ব্যবহার এবং পরিবারের স্নানের অভ্যাস—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সঠিক মডেল বেছে নেওয়া জরুরি।
দুই জনের জন্য কত লিটার
দুই সদস্যের পরিবারের জন্য সাধারণত ১০ থেকে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে কোন মডেলটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করে গরম পানি কীভাবে এবং কতটা ব্যবহার করা হয় তার ওপর।
যাঁরা বালতিতে পানি নিয়ে গোসল করেন, তাঁদের জন্য ১০ লিটার ধারণক্ষমতার গিজারও যথেষ্ট হতে পারে। তবে দুই জন পরপর গোসল করেন—এমন অভ্যাস থাকলে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার বেশি সুবিধাজনক।
অন্যদিকে শাওয়ারে গোসল করলে গরম পানির চাহিদা তুলনামূলক বেশি হয়। সে ক্ষেত্রে পানির প্রবাহ, স্নানের সময় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ১৫ লিটার বা তার বেশি ধারণক্ষমতার গিজার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
বাড়িতে গরম পানি অল্প সময়ের জন্য দরকার হলে ইন্সট্যান্ট গিজারও বিবেচনা করা যায়। সাধারণত ৩ বা ৬ লিটারের ইন্সট্যান্ট গিজার রান্নাঘরে বা অল্প পরিমাণ গরম পানির প্রয়োজনে কাজে আসে। তবে গোসলের জন্য এটি যথেষ্ট কি না, তা মডেলের ক্ষমতা ও পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করে।
স্টোরেজ না ইন্সট্যান্ট
স্টোরেজ গিজারে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি ট্যাংকে জমা রাখা হয় এবং তা গরম করে রাখা হয়। ফলে একবার পানি গরম হলে কিছু সময় পরও তা ব্যবহার করা যায়। পরিবারের দুই সদস্যের স্নানের সময়ের মধ্যে ব্যবধান থাকলে এ ধরনের গিজার সুবিধাজনক।
ইন্সট্যান্ট গিজার পানি প্রবাহের সময়ই তা গরম করে। এতে আগে থেকে বড় পরিমাণ পানি গরম করে রাখার দরকার হয় না। তবে একটানা বেশি পরিমাণ গরম পানি লাগলে এই গিজারের ক্ষমতা ও পানির প্রবাহ ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে যা দেখবেন
গিজার কেনার সময় শুধু দাম বা ধারণক্ষমতা দেখলেই হবে না; বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শক্তি-দক্ষতার দিকেও নজর দিতে হবে। বাজারে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের স্বীকৃত শক্তি-দক্ষতার লেবেল বা রেটিং যাচাই করতে হবে। ৫ স্টার রেটিংযুক্ত মডেল শক্তি সাশ্রয়ের বিবেচনায় ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে রেটিংয়ের মানদণ্ড দেশ ও পণ্যভেদে আলাদা হতে পারে।
স্টোরেজ গিজারের ক্ষেত্রে ট্যাংকের ইনসুলেশনও গুরুত্বপূর্ণ। পিইউএফ বা পলিইউরেথেন ফোম ইনসুলেশন ট্যাংকের ভেতরের তাপ বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার গতি কমায়। ফলে গরম পানি দীর্ঘক্ষণ তুলনামূলক উষ্ণ থাকে এবং বারবার নতুন করে পানি গরম করার প্রয়োজন কমতে পারে।
পাশাপাশি অটো থার্মোস্ট্যাট ও অটো-কাট সুবিধা আছে কি না, তাও দেখে নিতে হবে। নির্ধারিত তাপমাত্রায় পানি পৌঁছালে থার্মোস্ট্যাট হিটিং বন্ধ করতে সাহায্য করে। এতে অতিরিক্ত গরম হওয়া ও অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ এড়ানো যায়।
ট্যাংক ও হিটিং এলিমেন্টের মান
অনেক এলাকার পানিতে খনিজ পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে। এ ধরনের পানি ব্যবহারে গিজারের হিটিং এলিমেন্টে খনিজের আস্তরণ জমতে পারে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে পানি গরম হতে বেশি সময় লাগতে পারে এবং যন্ত্রের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
তাই কেনার আগে ট্যাংকে গ্লাস-লাইন্ড বা টাইটানিয়াম এনামেল কোটিং আছে কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত। এসব আবরণ ট্যাংককে ক্ষয় ও মরচে থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। হিটিং এলিমেন্টের উপাদান, ট্যাংকের ওয়ারেন্টি এবং সার্ভিস সুবিধাও যাচাই করা দরকার।
স্মার্ট ফিচার কি কাজে আসে
বর্তমানে কিছু গিজারে ডিজিটাল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, টাইমার ও ওয়াই-ফাইয়ের মতো সুবিধা রয়েছে। এসব ফিচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে গিজার চালু বা বন্ধ করা যায়। ফলে প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘক্ষণ গিজার চালু রাখার প্রবণতা কমানো সম্ভব। তবে স্মার্ট ফিচার থাকলেই বিদ্যুৎ বিল কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই; সঠিকভাবে ব্যবহার করলেই এর সুবিধা পাওয়া যায়।
বিল কমানোর উপায়
- গরম পানি প্রয়োজন হওয়ার কিছুক্ষণ আগে গিজার চালু করুন।
- কাজ শেষ হলে সুইচ বন্ধ করে দিন; অপ্রয়োজনে সারাক্ষণ চালু রাখবেন না।
- পানির তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়িয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সেট করুন।
- নিয়মিত হিটিং এলিমেন্ট ও ট্যাংক পরীক্ষা করান, বিশেষ করে পানিতে খনিজ বেশি থাকলে।
সব মিলিয়ে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ১০ থেকে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার অনেক ক্ষেত্রেই যথেষ্ট হতে পারে। তবে কেনার আগে পরিবারের গোসলের অভ্যাস, গরম পানির চাহিদা, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের রেটিং, ইনসুলেশন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করে নিতে হবে। শুধু বড় আকারের বা বেশি ফিচারের গিজার না কিনে প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই মডেল বেছে নিলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
Source: জাগো নিউজ২৪






