দুই মহাদেশ ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে গড়ে ওঠা ইস্তাম্বুল তুরস্কের সবচেয়ে বড় শহর, আবার পৃথিবীর প্রাচীনতম ঐতিহাসিক নগরীগুলোরও একটি। সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন, ধর্মীয় ঐতিহ্য আর স্থাপত্যের কারণে শহরটি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বাইজেন্টাইন ও উসমানীয় সভ্যতার উত্তরাধিকার এবং অসংখ্য মিনারের জন্য ইস্তাম্বুলকে ‘মসজিদের নগরী’ বলা হয়।

তুরস্কের মসজিদগুলোর খ্যাতি কেবল উপাসনালয় হিসেবে নয়; অটোমান স্থাপত্যশৈলী আর ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি এগুলো প্রাচীন উসমানীয় সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তি ও নির্মাণ-দক্ষতার প্রতীক। ইস্তাম্বুলের প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে যেন একেকটি সাম্রাজ্যের গল্প লেখা, তাই শহরটিকে খোলা আকাশের নিচে এক জীবন্ত জাদুঘর বলে মনে হয়।

ভোরে চারদিক থেকে আজানের সুর ভেসে আসে, আকাশরেখায় দেখা যায় সারি সারি মিনার ও গম্বুজ। উঁচু ভবন, ব্যস্ত সড়ক, ট্রাম-মেট্রো আর পর্যটকের ভিড়ের মধ্যেও শহরটি নিজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রেখেছে। ইস্তাম্বুলে প্রায় ৩,০০০ সক্রিয় মসজিদ রয়েছে, যার কয়েকটি বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হাগিয়া সোফিয়া, বাংলাভাষীদের কাছে যা হাজিয়া সোফিয়া মসজিদ নামে পরিচিত। প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরোনো ভবনটি শুরুতে ছিল বাইজেন্টাইন গির্জা, উসমানীয় আমলে তা মসজিদে রূপ নেয়; বিশাল গম্বুজই এর প্রধান আকর্ষণ।

১৬০৯ থেকে ১৬১৬ সালের মধ্যে নির্মিত সুলতান আহমেদ মসজিদের ভেতরের দেয়ালে হাজার হাজার নীল ইজনিক টাইলস থাকায় এটি ‘ব্লু মসজিদ’ নামে খ্যাত; ছয়টি মিনারও এর বৈশিষ্ট্য। ১৬ শতকে সুলতান সুলায়মানের নির্দেশে স্থপতি মিমার সিনানের হাতে গড়া সুলায়মানিয়া মসজিদকে অটোমান প্রকৌশলের শ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলোর একটি ধরা হয়।

চামলিকা পাহাড়ের চামলিকা মসজিদ তুরস্কের আধুনিক ইতিহাসে নির্মিত সবচেয়ে বড় মসজিদ, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারেন। বসফরাস প্রণালীর তীরে বারোক শৈলীতে নির্মিত ওরতাকেয় মসজিদ এর অবস্থান ও পাথরে সূক্ষ্ম খোদাইয়ের জন্য পর্যটকদের টানে।

ইস্তাম্বুলের বাইরে বুরসা শহরের উলু ক্যামি স্থানীয়ভাবে ‘বুরসা গ্র্যান্ড মসজিদ’ নামে পরিচিত। ১৪ শতকের শেষভাগে নির্মিত এ মসজিদে রয়েছে ২০টি গম্বুজ ও নজরকাড়া ক্যালিগ্রাফি।