ইস্তাম্বুলে এম১১ (M11) মেট্রোর শেষ অংশে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে; নতুন এই অংশ আরনাভুতকয়কে (Arnavutköy) জুড়ে দিয়েছে হালকালির (Halkalı) সঙ্গে। তুরস্কের প্রধান শহরটির যোগাযোগব্যবস্থায় এটি নতুন মাইলফলক, ৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন এনেছে। সর্বশেষ এই সম্প্রসারণে পুরো নগর পরিবহনেই গতি বেড়েছে।

নতুন যুক্ত হওয়া ১৭.৫ কিলোমিটার অংশে আরনাভুতকয় হাসতানে থেকে হালকালি পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে; এই অংশের স্টেশনগুলো হলো হালকালি, অলিম্পিয়াতকয়, কায়াশেহির, ইবন খালদুন ইউনিভার্সিটি ও আরনাভুতকয় হাসতানে। নতুন রুটে যাত্রীদের অভ্যস্ত করার জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত হালকালি-আরনাভুতকয় অংশে বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ রাখা হয়েছে, আর নতুন রুটটি শহরের সঙ্গে বিমানবন্দর ও দ্রুতগতির (হাই-স্পিড) রেল নেটওয়ার্কের সংযোগ তৈরি করেছে।

ইস্তাম্বুলের পাতাল রেলের ইতিহাস শুরু ১৮৭৫ সালে, বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম সাবওয়ে ‘তুনেল’ (Tünel) দিয়ে, যা ছিল শহরের প্রথম ভূগর্ভস্থ রেলব্যবস্থা। ফরাসি প্রকৌশলী ইউজিন গ্যালানের নির্মিত এই ভূগর্ভস্থ ফানিকুলার মূলত কারাকোয় ও বেয়োগ্লুকে যুক্ত করে; শুরুতে বাষ্পীয় ইঞ্জিনে চললেও ১৯১১ সালে এটি বিদ্যুতায়িত হয়।

আধুনিক মেট্রোর প্রথম লাইন এম১ চালু হয় ১৯৮৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর, আর প্রথম আধুনিক ভূগর্ভস্থ লাইন এম২ যাত্রীদের জন্য খোলে ২০০০ সালে। সবচেয়ে বড় মাইলফলক ছিল ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর উদ্বোধন হওয়া মারমারে (Marmaray), যা বসফরাস প্রণালির তলদেশ দিয়ে এশিয়া ও ইউরোপকে যুক্ত করে কয়েক মিনিটে দুই মহাদেশে যাতায়াত সম্ভব করেছে।

২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী শহরে প্রায় ১১টি মেট্রো লাইন সক্রিয়; শত শত স্টেশন নিয়ে বিস্তৃত এ ব্যবস্থা মারমারে কমিউটার রেল, ট্রাম ও ফানিকুলারের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রতিদিন লাখ লাখ যাত্রীকে যানজট এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ দেয়। ইউরোপ ও এশিয়া দুই অংশজুড়ে বিস্তৃত এই নেটওয়ার্ক বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ ও দ্রুত বর্ধনশীল গণপরিবহন ব্যবস্থা।

এম১১ লাইন শহর থেকে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে (IST) যাত্রী নেয়, গায়রেত্তেপে থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলে সরাসরি; এর সর্বশেষ সম্প্রসারণেই যুক্ত হলো হালকালি। পর্যটক ও স্থানীয়দের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এম২ লাইন (ইয়েনিকাপি-হাচিওসমান), যা তাকসিম, লভেন্টসহ প্রধান কেন্দ্র এবং ঐতিহাসিক ফাতিহ জেলা (সুলতানাহমেত, হাগিয়া সোফিয়া) ও বসফরাস তীরের দিকে যাতায়াতে সবচেয়ে জনপ্রিয়। এশীয় অংশের যাত্রীদের জন্য কাদিকয় থেকে সাবিহা গোকচেন বিমানবন্দর পর্যন্ত চলা এম৪ লাইন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

বেশির ভাগ লাইন সকাল ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে, তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি লাইনে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সারা রাত, অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টা, সেবা মেলে। ভাড়া পরিশোধে লাগে ইলেকট্রনিক কার্ড Istanbulkart, যা মেট্রো, ট্রাম ও ফেরি—সব বাহনেই ব্যবহার করা যায়।