ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে চলছে জোর সমালোচনা। দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা, একাদশ বাছাই ও আগামী দিনের দল গঠন নিয়ে মুখ খুলেছেন দেশটির সাবেক তারকারা, বড় পরিবর্তন চেয়েছেন রিকি পন্টিং ও ম্যাথু হেইডেন।
এরই মধ্যে দলে প্রথম বদলও এসেছে। দ্বিতীয় টেস্টের ১৩ সদস্যের স্কোয়াডে ম্যাট রেনশোকে ফেরানো হয়েছে, বাদ পড়েছেন জেক ওয়েদারাল্ড, আর এটিই স্কোয়াডে একমাত্র পরিবর্তন। ডারউইনে ওয়েদারাল্ড করেছিলেন ২৩ ও শূন্য রান।
চ্যানেল সেভেনে ১৭ আগস্টের এক আলোচনায় পন্টিং হারটিকে ‘অত্যন্ত বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়া একটি সেশনেও জিততে পারেনি, তাই দল পুনর্গঠন ও নতুনদের সুযোগ দেওয়ার সময় এখনই। বিশেষ করে ওপেনিং আর তিন নম্বরে নতুন মুখ দেখতে চান সাবেক এই অধিনায়ক।
পন্টিংয়ের সমালোচনায় ওয়েদারাল্ডের সঙ্গে বিশেষভাবে এসেছে মারনাস লাবুশেনের নাম। ডারউইনে লাবুশেনের সংগ্রহ ছিল ১ ও ৩১ রান, তবু তাঁকে আপাতত দলে রাখা হয়েছে এবং কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড তাঁর কাছ থেকে বড় ইনিংসের আশা করছেন। ফলে ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর ব্যাট ও দলের ব্যাটিং অর্ডারের দিকে বাড়তি নজর থাকবে।
হেইডেনও ব্যাটিং অর্ডারে বড় রদবদলের পক্ষে, তাঁর পরামর্শ ট্রাভিস হেডকে তিন নম্বরে এনে ওপেনিংয়ে নতুন জুটি গড়া। রেনশোকে টেস্ট দলে ফেরানোর পক্ষে অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন হেইডেন, তাঁর মতে এবার তাঁকে সুযোগ দেওয়ার সময় হয়েছে। তরুণ স্যাম কনস্টাসকেও বিকল্প হিসেবে ভাবার কথা বলেছেন তিনি।
দলে একসঙ্গে কয়েকজন অলরাউন্ডার খেলানোর দরকার আছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন হেইডেন। ডারউইনে একাদশে ছিলেন বিউ ওয়েবস্টার ও ক্যামেরন গ্রিন দুজনই, তবে দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত শতক করে দলে থাকার জোরালো দাবি জানিয়ে রেখেছেন গ্রিন।
ম্যাচে ৪২৬ রান তুলে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে গুটিয়ে গেলে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়, যা এক উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। এই হার এখন অস্ট্রেলিয়াকে দলের ভবিষ্যৎ, নতুন প্রজন্মের সুযোগ ও অফফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।






