আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আগামী এক থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক সিটি। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, বছরের শেষ নাগাদ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমে আসা এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার প্রত্যাশা এই পূর্বাভাসের পেছনে কাজ করছে।
বুধবার সিটি জানায়, বছর শেষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা এবং ইয়েমেন-সৌদি সংঘাতের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার প্রত্যাশা থেকে সোনার দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতির আভাস দিয়েছে তারা। তথ্যসূত্র: রয়টার্স।
এক দিনে বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ডলারের দাম ও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমেছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৪ ডলার ৮৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। গত ২২ অক্টোবরের পর এটিই সোনার সর্বোচ্চ দাম। আগের দিন বুধবার দাম বেড়েছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ১৯ আগস্টের পর এক দিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
বিশ্লেষকের ভাষ্য
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এক্সএস ডটকমের বিশ্লেষক লিন ট্রান বলেন, ডলার দুর্বল হওয়া এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমার কারণে সোনার দাম আবার ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ সীমা ছাড়িয়েছে। তবে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে হলে দামকে ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থিতিশীল থাকতে হবে।
তাঁর মতে, বিনিয়োগের প্রবাহ ও বন্ডের মুনাফার পরিবর্তন সোনার বাজারে সহায়তা করলে দাম প্রথমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০০ ডলার এবং পরে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ডলার দুর্বল, শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর বৃহস্পতিবার ডলারের দাম কিছুটা কমেছে। নির্বাচনের ফলাফল বাজারের একটি বড় অনিশ্চয়তা দূর করেছে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ডলারের দাম কমলে অন্য মুদ্রার মালিকদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত সোনা কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়, যার ফলে সোনার চাহিদা বাড়তে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা রাতারাতি ৬ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। টোকিওতে দিনের শুরুতে তা আরও ১ বেসিস পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন শুক্রবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের নন-ফার্ম পেরোলস বা কৃষি খাতের বাইরের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন। এই প্রতিবেদন থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজারের ৮২ শতাংশ বিনিয়োগকারী। সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনা ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়, যাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনার আকর্ষণ কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার প্রত্যাশা এবং ডলারের দুর্বলতা সোনার বাজারে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
Source: জাগো নিউজ২৪






