পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবর প্রথমে গুজব বলে নাকচ করলেও শেষ পর্যন্ত পদ ছাড়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি জানান, জাতীয় প্রেস ক্লাবে দুপুর ২টায় সাংবাদিকদের সামনে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেবেন। মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরালো করা এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েন ইশরাক। এর মধ্যেই রোববার (১৮ অক্টোবর) সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

সেদিন রাতেই অডিও বার্তা দিয়ে ইশরাক ওই খবরকে গুজব বলেন এবং তাতে কান না দিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান। তার প্রেস কর্মকর্তাও খবরটিকে অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দেন। পরে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে ফেসবুকে আরেক পোস্টে ইশরাক লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংবাদ সম্মেলন ডেকে দেশবাসীকে সব জানানো হবে।

সোমবারের পোস্টে ইশরাক উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষকে, যাদের তিনি সুশীল বলে অভিহিত করেন, উল্লাস প্রকাশ করে লিখতে দেখেছেন। আবার কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের দরকার পড়লে তারাও জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিদেশ থেকে ফিরে তাতে যোগ দেবেন—এমন আশার কথাও জানান তিনি।

পরবর্তী পরিকল্পনা জানিয়ে ইশরাক বলেন, এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হয়ে আরও শতগুণ উদ্দীপনা নিয়ে মাদকবিরোধী কাজ চালিয়ে যাবেন। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের সুযোগ পাবেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টের শেষ লাইনে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল!’

তবে আগাম ঘোষণার কথা জানানো আর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ সম্পন্ন হওয়া আলাদা বিষয়। দুপুরের সংবাদ সম্মেলন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্যের ভিত্তিতেই তা নিশ্চিত হবে।