বাংলাদেশি লেখক ও মানবাধিকারকর্মী তসলিমা নাসরিন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে দলের নেতৃত্ব নেওয়া ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি; ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ব্যাপক গণবিক্ষোভে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ও তাঁর দেশত্যাগের পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।

সোমবার (৩ আগস্ট) কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তসলিমা, যিনি প্রায় দুই দশক পর শহরটিতে ফিরেছেন, দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে যেভাবে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে তা ভুল ও গণতন্ত্রবিরোধী। দলটিকে নিষিদ্ধ করাও অগণতান্ত্রিক, তাদের ভোটে আসতে দেওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি চাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুন।’

মাদ্রাসাকেন্দ্রিক উগ্র ইসলামপন্থিদেরও কড়া সমালোচনা করেন তসলিমা। তাঁর মতে, মাদ্রাসার কোনো প্রয়োজন নেই, এগুলো কেবল জিহাদি তৈরি করে; সব মাদ্রাসাকে ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্যালয়ে বদলে ফেলা উচিত।

১৯ বছর পর কলকাতায় ফেরার সুযোগ পাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তসলিমা বলেন, এ আমন্ত্রণে তিনি রাজনৈতিক কিছু দেখছেন না; পশ্চিমবঙ্গে থাকার সময় তাঁর নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে নতুন নির্বাচিত সরকার।

এর আগে রোববার তাঁর প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবি জয় গোস্বামী বক্তব্য দেওয়ার সময় দর্শকদের একাংশের স্লোগান ও চিৎকারে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে; তসলিমা তখন কিছুক্ষণ মঞ্চে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এতে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি জয় গোস্বামীর পাশাপাশি তাঁর প্রতিও অপমান; মতভেদ থাকলেও সবার কথা বলার অধিকার আছে।

সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তসলিমা বলেন, বিপদগ্রস্ত হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোর মাশুল দিতে হয়েছে চিন্ময়কে। তাঁর অভিযোগ, মুক্তচিন্তার মানুষদের ধারাবাহিকভাবে নিশানা করা হচ্ছে এবং অনেকেরই দেশ ছাড়া বিকল্প ছিল না।

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মৃত্যুদণ্ড দেন বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল; অভিযোগ ছিল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ। শেখ হাসিনার আইনজীবীরা ওই বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে চ্যালেঞ্জ করেছেন।