ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছের এক হোটেলে আগুনে নিহত সাভারের আহমেদ বাবুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দেশে আনা মরদেহের জানাজা শেষে রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে আমিনবাজার বড়দেশী কবরস্থানে তাকে কবর দেওয়া হয়।
স্বজনেরা জানান, শনিবার বিকেলে বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে মরদেহ দেশে আসে; প্রয়োজনীয় কাজ সেরে রাত ৩টার দিকে তারা সাভারে ফেরেন। রোববার সকাল সোয়া ৯টার দিকে মরদেহ আমিনবাজারের হাজি বাড়ি মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে লাশবাহী গাড়িতে হিজলা পাঁচ মসজিদ মাঠে নেওয়া হয়, সেখানেই জানাজা হয়।
স্বামীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী গুলশান আরা, আর বাবাকে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে তাদের দুই সন্তান। দাফনের আগে মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান, ব্যবসার কাজে স্বামী কলকাতায় যেতেন, ‘আমাকে বিধবা বানাল, আমার দুইটা বাচ্চাকে এতিম করল।’ সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য সরকারের সহায়তা এবং নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরির দাবি জানান তিনি।
মেয়ে এলিনা হাসান রোজার বয়স আট বছর; মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল সে। শিশুটি জানায়, ভারত থেকে ফেরার সময় বাবা তার জন্য চকলেট, চিপসসহ নানা কিছু আনতেন; এখন আর কেউ সেসব এনে দেবে না।
বাবুর বন্ধু মো. ইব্রাহীম জানান, দুজনে বহুবার একসঙ্গে ভারতে গেছেন, আর শেষবার ওই হোটেলের এসিতে আগুন ধরেছিল। তখনই ভাঙাচোরা, দুর্বল ও নোংরা পরিবেশের ওই হোটেলে আর না ওঠার জন্য বাবুকে সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বন্ধুকে ভালো মানুষ হিসেবে স্মরণ করে ইব্রাহীম বলেন, এভাবে চলে যাবেন তা কখনো ভাবেননি।
বাবুর বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, কলকাতা যাওয়ার সময় বাবুর কাছে একটি মোবাইল ফোন ও তিন লাখ টাকা ছিল; আগুনের পর এগুলোর কী হলো, তা নিয়ে পরিবার উদ্বিগ্ন। তিনি টাকা-মোবাইলসহ ব্যক্তিগত মালপত্র ফেরত, দুই সন্তানের পড়াশোনার পুরো খরচ সরকারের বহন এবং তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আগুনের ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে; তাতে বাবুসহ সাত বাংলাদেশির মৃত্যু হয়, আর হোটেলটিতে তখন ২৫ বাংলাদেশি ছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজনও আছেন। এ ঘটনায় হোটেলের নিরাপত্তাব্যবস্থা, আগুনের কারণ এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।






