লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ১৮ বাংলাদেশির ৮ জনই সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুরের বলে জানা গেছে। স্বজনেরা খবরটি পেয়েছেন মূলত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে; কেউই বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারছেন না।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে মো. আজিজুর রহমান জানান, খোঁজ নিয়ে তারা দিরাই ও জগন্নাথপুরের আটজনের মৃত্যুর তথ্য পেয়েছেন। তিনি সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক (ডিআইও-১)।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, পথে খাবার ও পানির সংকটে অনেকে দুর্বল হয়ে একে একে মারা যান, পাচারকারীদের নির্দেশে তাদের দেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। বেঁচে ফেরা রোহান আহমেদের ভাষ্য, দিরাইয়ের চারজনসহ অনেকের মৃত্যু তিনি নিজ চোখে দেখেছেন।
দিরাইয়ের যে চারজনের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তারা হলেন তারাপাশা গ্রামের নুরুজ্জামান সরদার ময়না (৩০, বাবা আবু সাঈদ সরদার), সাজিদুর রহমান (২৮, বাবা আব্দুল গণি), শাহান মিয়া (২৫, বাবা ইসলাম উদ্দিন) এবং রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান (৩৮, বাবা আব্দুল মালেক)। নুরুজ্জামান সরদার ময়না স্থানীয় সাংবাদিক উমেদ আলীর ভাগ্নে।
স্বজনদের অভিযোগ, মুজিবুর রহমান নামে এক মানবপাচারকারী—তারাপাশা গ্রামের ওয়াকিব মিয়ার ছেলে—জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় তাদের লিবিয়া হয়ে গ্রিসে পাঠানোর চুক্তি করেন। বড় ও নিরাপদ নৌযানের কথা থাকলেও তাদের তোলা হয় ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকায়।
এলাকাজুড়ে শোকের মধ্যে দ্রুত মরদেহ ফিরিয়ে আনা এবং জড়িত মানবপাচার চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
তবে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জিব সরকার জানান, পরিবারগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ না করায় খবরটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকারও বলেন, দিরাইয়ের চারজন থাকার তথ্য মিললেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।





