লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে নৌকায় গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ হয়েছেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ছয় যুবক। সোমবার (১৭ আগস্ট) তাঁদের পরিবার এ তথ্য জানায়, স্বজনের খোঁজ না পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় আছেন তাঁরা।

নিখোঁজ ছয়জন হলেন হৃদয় পাল, সাগর পাল, মো. তালহা, এনামুল খাঁন, রিপন মিয়া ও মামুন খাঁন। তাঁরা উপজেলার শত্রুমর্দন, চিকারকান্দি, রনসী ও সিচনী গ্রামের বাসিন্দা।

হৃদয়ের বাবা রন্টু পাল বলেন, ৩১ জুলাই ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়, তখন হৃদয় জানিয়েছিলেন দু-এক দিনের মধ্যে গ্রিসের পথে রওনা দেবেন। রন্টু পালের ভাষ্য, লিবিয়াপ্রবাসী উমর আলী ও দালাল কদ্দুস আলীর (বাড়ি শান্তিগঞ্জের ডুংরিয়া গ্রামে) সঙ্গে ১৩ লাখ টাকায় চুক্তি করে হৃদয়কে ঢাকা থেকে ভারত, শ্রীলংকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘুরিয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। শান্তিগঞ্জ থানা-পুলিশের একটি দল খোঁজখবর নিতে তাঁর বাড়িতে এসেছিল বলেও জানান তিনি।

মামুনের চাচা জানান, ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁর ভাতিজা, সেদিনও ফোনে কথা হয়েছিল, এরপর আর খোঁজ মেলেনি। ভাতিজাকে খুঁজে ফিরিয়ে দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

একই যাত্রায় বেঁচে যাওয়া শান্তিগঞ্জের আরও চার যুবক মিসরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। তাঁরা হলেন দরগাপাশা ইউনিয়নের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান (সিচনী গ্রাম) ও আলিম উদ্দিন (বুরুমপুর গ্রাম), আর পাথারিয়া ইউনিয়নের আবু সাইদ ও আব্দুল করিম। পরিবারগুলো জানিয়েছে, তাঁদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে স্বজনদের নিরাপত্তার কথা ভেবে দালালদের বিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি তারা।

ভিডিও বার্তায় আব্দুল করিম জানান, ৪২ জন মিলে তাঁরা লিবিয়া থেকে রওনা হয়েছিলেন, গ্রিসের কাছাকাছি গিয়ে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়, কিন্তু দালালের লোকজন বা কোনো সংস্থা উদ্ধারে আসেনি। তাঁর বর্ণনায়, খাবার ও পানি না থাকায় চোখের সামনে ৯ বাংলাদেশি মারা যান, যাঁদের মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে হয়, পরে মারা যান আরও দুজন। মারসা মাতরুহ হাসপাতালে এখন চিকিৎসা ও খাবার পাচ্ছেন জানিয়ে তিনি আকুতি জানান, ‘আমাদের বাঁচান, আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই’।

শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মো. ওলিউল্লাহ বলেন, ভুক্তভোগী কোনো পরিবার এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, পুলিশ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।