অনেক দিন ধরে সমাজে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমবয়সী বা কাছাকাছি বয়সের দম্পতিকেই আদর্শ হিসেবে ধরে নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। ডেটিং অ্যাপের বিস্তার ও আধুনিক জীবনধারার প্রভাবে বয়সের বড় ব্যবধান রয়েছে—এমন জুটির সংখ্যা এখন সমাজে বেশ চোখে পড়ছে। মানুষের মনস্তত্ত্ব ও সম্পর্কের সমীকরণ বলছে, বয়সের ব্যবধান থাকলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া চমৎকার হতে পারে, তবে শুরুতেই কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় পরিষ্কার করে নিতে হবে।

বয়সের ব্যবধানের ইতিবাচক দিক

বয়সে বড় সঙ্গী অভিজ্ঞ ও শান্ত স্বভাবের হন। এতে অনেক সময় ছোট সঙ্গীর আবেগপ্রবণতা বা অস্থিরতা সুন্দরভাবে সামলে নিতে সাহায্য হয়। সম্পর্কের মধ্যে একধরনের মানসিক স্থায়িত্ব ও ভারসাম্য তৈরি হয়।

দুই ভিন্ন প্রজন্মের মানুষ হওয়ায় তাদের জীবনদর্শন, পছন্দ ও চিন্তাভাবনায় বৈচিত্র্য থাকে। এই ভিন্নতা একে অপরের জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে এবং নতুন কিছু শেখার সুযোগ তৈরি করে।

বয়সের ফারাক থাকার কারণে ছোটখাটো বিষয়ে সহজে ভুল বোঝাবুঝি বা রাগারাগি হয় না। বয়সে বড় ব্যক্তি সাধারণত পরিস্থিতি আরও পরিপক্বভাবে মূল্যায়ন করেন।

যে চ্যালেঞ্জগুলো আসে

সমাজ বা চারপাশের মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য বা আড়ালে ফিসফিসানি অনেক সময় সম্পর্কের শুরুর দিকে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারকে রাজি করানো বা বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।

জীবনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে দুজনের লক্ষ্য বা অগ্রাধিকার ভিন্ন হতে পারে। যেমন, একজন যখন ক্যারিয়ারের মধ্য গগনে বা থিতু হওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত, অন্যজন তখন হয়তো অবসরের পরিকল্পনা করছেন বা শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে ভিন্ন পর্যায়ে আছেন।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত যত্ন, আর্থিক নিরাপত্তা এবং অবসরের সময়ের ব্যবধান নিয়ে আগে থেকেই ভেবে রাখা জরুরি। বিশেষত বয়সের কারণে একজনের শারীরিক দুর্বলতা বা যত্নের বিষয়টি অন্যজনকে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখতে হয়।

বোঝাপড়া পোক্ত করার উপায়

সম্পর্কের শুরুতে নিজেদের চাওয়া-পাওয়া, ভয় ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে পরিষ্কার কথা বলা উচিত। বয়সের ব্যবধান নিয়ে কোনো নিরাপত্তাহীনতা কাজ করলে তা সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা দরকার।

অবসর জীবন কিংবা বড় কোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধানের বিষয়টি মাথায় রেখে আর্থিক বোঝাপড়া স্বচ্ছ রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতে কে কীভাবে অবদান রাখবেন, তা নিয়ে পারস্পরিক ঐকমত্য থাকা দরকার।

পারিপার্শ্বিক সমালোচনা বা কে কী ভাবল, সেটির চেয়ে নিজেদের মধ্যকার বোঝাপড়া ও সম্মানকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সঙ্গী ও নিজের পরিজনদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা এ ধরনের সম্পর্কের স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠি।

বয়সের সংখ্যাটি শুধুই একটি হিসাব। সম্পর্কের ভিত্তি নির্ভর করে পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা এবং যেকোনো পরিস্থিতি একসঙ্গে মোকাবিলা করার মানসিকতার ওপর। ভালোবাসা ও বোঝাপড়া যদি খাঁটি হয়, তবে বয়সের ব্যবধান কখনোই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।

Source: জাগো নিউজ২৪