বাড়ির এক কোণে সবুজের ছোঁয়া চাইলে বড় জায়গা বা অনেক চারা কেনার প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা পরিচিত কয়েকটি মসলা ও মসলার বীজ দিয়েই শুরু করা যায় নিজের ছোট মসলার বাগান। ধনে, মেথি, মৌরি থেকে শুরু করে আদা, রসুন ও হলুদ—এসব উপাদানের কিছু অংশ মাটিতে রোপণ করলেই সময়ের সঙ্গে গাছ জন্মাতে পারে। বারান্দার কোণে, ছাদে কিংবা জানালার পাশে কয়েকটি টব সাজিয়ে তৈরি করা যায় এমন বাগান। এতে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় তাজা পাতা ও কিছু মসলা হাতের কাছেই পাওয়া যাবে।

তবে সব মসলা লাগানোর পদ্ধতি এক নয়। কোনটি বীজ থেকে, আর কোনটি গাঁট বা কোয়া থেকে গাছ হয়, তা জেনে নেওয়া দরকার।

ধনে

রান্নায় ধনে পাতার ব্যবহার প্রায় প্রতিদিনই হয়। বাজার থেকে ধনে বীজ কিনে বা ঘরে থাকা আস্ত ধনে বীজ থেকেই টবে ধনেপাতা গাছ করা যায়। বীজগুলো খুব শক্ত হলে হালকা করে দুই ভাগ করে নিতে হবে, তবে ভেতরের অংশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এরপর ঝুরঝুরে মাটিতে অল্প গভীরে বীজ ছড়িয়ে পাতলা মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। নিয়মিত হালকা পানি দিলে সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে চারা গজাতে শুরু করে। টব এমন জায়গায় রাখতে হবে, যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পাওয়া যায়। গাছ বড় হলে প্রয়োজনমতো কচি পাতা সংগ্রহ করা যাবে।

মেথি

মেথি বীজ থেকেও সহজেই গাছ তৈরি করা যায়। একটি টবে মাটি ঝুরঝুরে করে তার ওপর মেথির বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে। এরপর অল্প মাটি দিয়ে ঢেকে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। মাটি যেন আর্দ্র থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই ছোট চারা দেখা দিতে পারে। মেথির কচি পাতা শাক হিসেবে রান্না করা যায়। গাছ বড় হতে দিলে পরবর্তী সময়ে বীজও সংগ্রহ করা যাবে।

মৌরি বা মিষ্টি জিরা

মৌরির বীজ থেকেও টবে গাছ করা সম্ভব। বীজগুলো মাটিতে অল্প গভীরে বুনে হালকা পানি দিতে হবে। পর্যাপ্ত আলো ও পানি পেলে ধীরে ধীরে গাছ বড় হবে। মৌরি গাছের জন্য এমন টব বেছে নেওয়া ভালো, যেখানে শিকড় ছড়ানোর মতো জায়গা রয়েছে। গাছ পরিপক্ব হলে এর বীজ সংগ্রহ করে রান্নায় ব্যবহার করা যায়। বাড়ির মসলার বাগানে বৈচিত্র্য আনতেও মৌরি রাখা যায়।

কালোজিরা

কালোজিরার বীজ সরাসরি মাটিতে বুনে গাছ তৈরি করা যায়। টবের মাটি ঝুরঝুরে করে বীজ ছড়িয়ে তার ওপর খুব পাতলা করে মাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এরপর হালকা পানি দিতে হবে। মাটি যেন অতিরিক্ত ভিজে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পর্যাপ্ত রোদ পেলে চারা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠবে। গাছ পরিপক্ব হলে ফুল আসবে এবং পরে কালোজিরার বীজ সংগ্রহ করা যাবে।

আদা

আদা গাছ করতে হলে বাজার থেকে এমন আদা বেছে নিতে হবে, যার গায়ে ছোট ছোট চোখ বা অঙ্কুর রয়েছে। আদার গাঁট ছোট ছোট টুকরো করে নেওয়া যায়, তবে প্রতিটি টুকরোয় অন্তত একটি সুস্থ অঙ্কুর থাকা প্রয়োজন। টবের মাটিতে টুকরোগুলো অল্প গভীরে পুঁতে দিতে হবে। মাটি আর্দ্র রাখতে হবে, কিন্তু পানি জমতে দেওয়া যাবে না। কিছুদিন পর নতুন কাণ্ড ও পাতা বের হবে। আদা পরিপক্ব হতে কয়েক মাস সময় লাগে। তাই ধৈর্য ধরে পরিচর্যা করতে হবে।

রসুন

রসুনের কোয়া থেকেও নতুন গাছ তৈরি করা যায়। একটি সুস্থ ও বড় রসুনের কোয়া বেছে নিতে হবে। খোসা না ছাড়িয়ে কোয়ার চ্যাপ্টা অংশ নিচের দিকে এবং সরু ডগা ওপরের দিকে রেখে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে। কোয়ার ওপর সামান্য মাটি দিয়ে পানি দিতে হবে। কয়েক দিনের মধ্যে সবুজ পাতা বের হতে শুরু করবে। রসুন গাছের জন্য পর্যাপ্ত রোদ এবং পানি বের হওয়ার ভালো ব্যবস্থা রয়েছে—এমন টব বেছে নিতে হবে।

হলুদ

আদার মতো হলুদের গাঁট বা রাইজোম থেকেও গাছ তৈরি করা যায়। এমন হলুদের টুকরো বেছে নিতে হবে, যাতে এক বা একাধিক সুস্থ কুঁড়ি রয়েছে। টবের মাটিতে অল্প গভীরে পুঁতে দিতে হবে। নিয়মিত পানি দিলেও মাটিতে যেন পানি জমে না থাকে। পর্যাপ্ত আলো পেলে ধীরে ধীরে পাতা ও কাণ্ড গজাবে। গাছ পরিপক্ব হলে মাটির নিচে নতুন হলুদের গাঁট তৈরি হবে। সেগুলো সংগ্রহ করে রান্নায় ব্যবহার করা যাবে।

মসলার বাগানের যত্ন

মসলা গাছ ভালো রাখতে টবে পানি নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকা জরুরি। ঝুরঝুরে ও পানি বের হওয়ার উপযোগী মাটি ব্যবহার করতে হবে। বেশির ভাগ গাছের জন্য পর্যাপ্ত আলো প্রয়োজন, তবে গাছের ধরন অনুযায়ী রোদের পরিমাণ ঠিক করতে হবে। মাটি শুকিয়ে এলে পানি দিতে হবে, অতিরিক্ত পানি ঢেলে টব ভিজিয়ে রাখা যাবে না। নিয়মিত শুকনো পাতা সরিয়ে দিতে হবে এবং প্রয়োজনমতো জৈব সার ব্যবহার করতে হবে।

জায়গা কম হলেও কয়েকটি টব দিয়েই শুরু করা যায় মসলার বাগান। রান্নাঘরের পরিচিত উপাদান থেকে গাছ জন্মানোর আনন্দ যেমন আলাদা, তেমনি নিজের হাতে ফলানো তাজা মসলা ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও হবে দারুণ।

তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ লাইফস্টাইল; দ্য স্প্রুস, ম্যাজিক ব্রিকস, নিউজ এইটটিন এসএকেওয়াই।

Source: জাগো নিউজ২৪