বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পেকে যাওয়া স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই নির্ধারিত বয়সের আগেই চুলে সাদা বা ধূসর রঙের উপস্থিতি দেখা যায়। পাকা চুল আড়াল করতে কেউ বেছে নেন বিভিন্ন ধরনের হেয়ার কালার, আবার কেউ আস্থা রাখেন প্রাকৃতিক মেহেদির ওপর। চুলে রং করার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি মেহেদি চুলের পরিচর্যাতেও কাজে লাগে। শুধু মেহেদি নয়, কিছু পরিচিত উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় বিশেষ হেয়ার প্যাক, যা চুলের রঙের পাশাপাশি রুক্ষতা ও শুষ্কতা কমাতেও সহায়ক হতে পারে। মেহেদির সঙ্গে কোন উপাদান মেশালে কেমন ফল মেলে, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাগো নিউজের লাইফস্টাইল বিভাগ।
লেবুর রস: রঙের গভীরতা বাড়ায়
লেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে এবং এটি প্রকৃতিগতভাবে অম্লীয়। এই বৈশিষ্ট্য মেহেদির প্রাকৃতিক রঙকে আরও ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে, অর্থাৎ রঙের গভীরতা বাড়াতে সহায়ক। এর পাশাপাশি লেবুর রস মাথার ত্বকের কিউটিকল মজবুত করে এবং খুশকি ও চুল পড়া রোধেও সহায়তা করতে পারে। একটি লেবুর পুরো রস ভালোভাবে চিপে মেহেদির মিশ্রণে মিশিয়ে নিতে হয়। তবে ত্বক সংবেদনশীল হলে লেবুর রস এড়িয়ে চলাই ভালো। ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
আমলকির গুঁড়া: গাঢ় আভা ও চুলের বৃদ্ধি
চুলের পরিচর্যায় আমলকির ব্যবহার বেশ পরিচিত। এতে রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমলকি মেহেদির লাল রঙকে আরও গাঢ় করতে, অর্থাৎ বারগান্ডি বা গাঢ় বাদামি আভা আনতে সাহায্য করে। এটি চুলের বৃদ্ধি ও ঘনত্ব বাড়াতেও কাজে আসে। মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি আমলকি চুলকে ঘন, মজবুত ও উজ্জ্বল করে তোলে। দুই টেবিল চামচ আমলকির গুঁড়া মেহেদির পেস্টের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করতে হয়।
টক দই: শুষ্কতা কমিয়ে কন্ডিশনিং
মেহেদি ব্যবহারের পর অনেকেরই চুল কিছুটা শুষ্ক মনে হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে টক দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যেতে পারে। দই ও মেহেদির এই মিশ্রণ চুলকে গভীরভাবে কন্ডিশন করে এবং চুল নরম ও উজ্জ্বল রাখে। এটি খুশকি দূর করতেও সহায়ক এবং চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে, ফলে চুল আঁচড়ানো সহজ হয়। মেহেদিতে তিন টেবিল চামচ টক দই মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়তে হয়, যাতে মিশ্রণটি মসৃণ হয়।
অ্যালোভেরা জেল: মসৃণ পেস্ট ও শীতল অনুভূতি
চুলের শুষ্কতা ও রুক্ষতা কমাতে অনেকেই অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করেন। মেহেদির সঙ্গে এটি মেশালে পেস্ট আরও মসৃণ হয় এবং চুলে লাগানো সহজ হয়। এর পাশাপাশি মাথার ত্বকে শীতল অনুভূতিও দিতে পারে। মেহেদির পেস্টের সঙ্গে এক থেকে দুই টেবিল চামচ খাঁটি অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে চুলে লাগানোর কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বিটের রস: লালচে বা ওয়াইন আভা
চুলে লালচে বা ওয়াইন রঙের আভা পেতে মেহেদির সঙ্গে বিটের রস মেশানো যেতে পারে। বিটের প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান চুলে সাময়িক রঙের ছোঁয়া দিতে পারে। পাকা বা ধূসর চুল ঢেকে ফেলার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। বিটের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান মাথার ত্বক সুস্থ রাখতে, তেলের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়ক। মেহেদির পেস্ট তৈরির সময় সাধারণ পানির পরিবর্তে পরিমাণমতো বিটের রস ব্যবহার করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হয়।
ব্যবহারের আগে যা খেয়াল রাখবেন
মেহেদি ব্যবহারের আগে চুলের ছোট একটি অংশে লাগিয়ে রঙের ফল দেখে নেওয়া যেতে পারে। মাথার ত্বকে ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করাও জরুরি। বিশেষ করে কালো মেহেদি বা অতিরিক্ত রাসায়নিক মেশানো পণ্য এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। মেহেদির সঙ্গে সব উপাদান একসঙ্গে না মিশিয়ে বরং চুলের প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বা দুটি উপাদান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব মিশ্রণ কেবল পাকা চুল প্রাকৃতিকভাবে ঢাকেই না, চুলকে আগের চেয়ে বেশি লম্বা, ঘন, গাঢ় রঙের ও রেশমি করতেও সহায়ক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ফেমিনা এসএকেওয়াই
Source: জাগো নিউজ২৪






