ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘সিআইডি’র স্রষ্টা, প্রযোজক ও পরিচালক ব্রিজেন্দ্র পাল সিং—যিনি বিপি সিং নামেই বেশি পরিচিত—মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।

বিপি সিংয়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন পরিচালক অশোক পণ্ডিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি প্রয়াত নির্মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। অশোক পণ্ডিতের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় টেলিভিশনে বিপি সিংয়ের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁর কাজ ভবিষ্যতের প্রজন্মের নির্মাতাদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

অশোক পণ্ডিত ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফটিডিএ) সভাপতি থাকাকালে বিপি সিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। বিপি সিংকে একজন অসাধারণ মানুষ ও প্রিয় বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে অশোক পণ্ডিত জানিয়েছেন, আগামী ২৮ অক্টোবর বিপি সিংয়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

টেলিভিশনে অপরাধ ও ভৌতিক ঘরানায় অবদান

ভারতের টেলিভিশন জগতে অপরাধ ও ভৌতিক ঘরানার ধারাবাহিক নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বিপি সিং। তাঁর হাত ধরেই দর্শকপ্রিয়তা পায় ‘সিআইডি’ ও ‘আহট’র মতো ধারাবাহিক। বিশেষ করে ‘সিআইডি’ ভারতীয় টেলিভিশনের অন্যতম দীর্ঘ সময় ধরে প্রচারিত ধারাবাহিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে ‘সিআইডি’। মুম্বাইয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি দলকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ধারাবাহিক দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ধারাবাহিকটির প্রযোজনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিপি সিং। পাশাপাশি কয়েকটি পর্বে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ শমশের সিংহ চিত্রোলের চরিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।

২০১০ সালে তাঁর উদ্যোগেই শুরু হয় ‘সিআইডি গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ডস’। টেলিভিশনের ইতিহাসে বিশেষ কৃতিত্ব রয়েছে ‘সিআইডি’র। ২০০৪ সালের অক্টোবরে ধারাবাহিকটির একটি বিশেষ পর্ব একটানা ১১১ মিনিটের শটে ধারণ করা হয়েছিল, যা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

‘আহট’সহ অন্যান্য কাজ

১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সনি টিভিতে প্রচারিত ভৌতিক ধারাবাহিক ‘আহট’র প্রযোজক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন বিপি সিং। এ ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘খাকি’, ‘অভয়’ এবং ‘সুপার কপস ভার্সেস সুপার ভিলেনস’।

সহকর্মীদের মতে, বিপি সিং কেবল একজন দক্ষ প্রযোজক ও পরিচালকই ছিলেন না, বরং নতুনদের জন্য একজন অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষকও ছিলেন। ভারতীয় টেলিভিশনে অপরাধ ও ভৌতিক ঘরানার ধারাবাহিককে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Source: জাগো নিউজ২৪