আগামী ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মারাঠি ভাষার থ্রিলার ঘরানার ছবি ‘গোন্ধল’। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে দর্শকের সামনে ছবিটির ট্রেলার প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অস্কারকে ঘিরে ছবিটির প্রচার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করল।
লেখক ও পরিচালক সন্তোষ দাভাখারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এটি। ভারতের পক্ষ থেকে অস্কার মনোনয়নের বিবেচনায় থাকা ৩৩টি সিনেমার মধ্য থেকে ‘গোন্ধল’কে নির্বাচিত করা হয়েছে।
গল্প কী নিয়ে
ট্রেলারে জমজমাট এক কাহিনির আভাস মিলেছে। ছবির গল্প গড়ে উঠেছে মহারাষ্ট্রের গ্রামীণ অঞ্চলে এক রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেখানে ‘গোন্ধল’ নামের একটি লোকজ আচার পালিত হয়, যাতে গান, নাচ ও নাটকীয় পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ভক্তি প্রকাশ করা হয়।
ছবিতে সুমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইশিতা দেশমুখ। দমবন্ধ করা এক দাম্পত্য সম্পর্কে আটকে পড়া তরুণী সুমন নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চান। এ লক্ষ্যে তিনি তাঁর প্রেমিক সারজেরাওয়ের (নিশাদ ভোইর) দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। তবে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সম্মান ও সামাজিক প্রথার সংঘাত শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতিতে পৌঁছে দেয়।
ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন কিশোর কদম, যোগেশ সোহোনি ও অনুজ প্রভু। চিত্রগ্রহণ করেছেন অমলেন্দু চৌধুরী। ছবির শুরুতেই রয়েছে টানা ২৫ মিনিটের একটি দৃশ্য, যা কোনো কাট ছাড়াই ধারণ করা হয়েছে। সংগীত ও আবহসংগীত তৈরি করেছেন কিংবদন্তি সুরকার ইলাইয়ারাজা।
পরিচালকের বক্তব্য
পরিচালক সন্তোষ দাভাখার বলেন, ভারতীয় সিনেমা সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ধারণা অনেক সময় দারিদ্র্য ও জাতপাতের সংঘাতের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। তাঁর মতে, এসব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হলেও তা দেশটির সম্পূর্ণ পরিচয় নয়; ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সংগীত ও সম্মিলিত স্মৃতিও রয়েছে। সেই ঐতিহ্যের একটি শক্তিশালী দিক সাংস্কৃতিকভাবে যথাযথ ও সর্বজনীন চলচ্চিত্রের ভাষায় বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরতেই তিনি ছবিটি নির্মাণ করেছেন।
এর আগে ৫৬তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অব ইন্ডিয়ায় (আইএফএফআই) সেরা পরিচালকের জন্য সিলভার পিকক পুরস্কার জিতেছেন দাভাখার। ওই উৎসবের বিচারকমণ্ডলী ছবিটিকে বাস্তব জগতের পটভূমিতে নির্মিত শেক্সপিয়রীয় উপাখ্যানের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
দাভাখার ফিল্মসের ব্যানারে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন সন্তোষ দাভাখার ও তাঁর সহপ্রতিষ্ঠাতা দীক্ষা দাভাখার। প্রতিষ্ঠানটি আঞ্চলিক গল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি চিত্রগ্রহণ, শব্দ, সংগীত ও অভিনয়ে উচ্চমান বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
Source: জাগো নিউজ২৪






