ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য; জনগণের অধিকার আদায়ের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচি পালন করা হবে। বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে জোটের অবস্থান কর্মসূচিতে এ ঘোষণা দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচিটি পালন করে জোট। শফিকুর রহমান জানান, লংমার্চে বাধা এলে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো হবে; নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।
কর্মসূচিতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার প্রতিটি ধাপে মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তার মতে, গ্যাস-বিদ্যুতের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের আর ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্ন দেখা ঠিক নয়। ছাত্রদল আবার ছাত্রলীগের কায়দায় হল দখলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসসংকট সমাধানে ১০ দফা জনদাবিও তুলে ধরে জোটটি। এর মধ্যে রয়েছে গত তিন মাসে আদায় হওয়া কথিত ‘ভূতুড়ে’ বিল নিয়ে গণশুনানি, দায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ; প্রিপেইড-পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়াসহ অযৌক্তিক চার্জ বাতিল; বাড়তি নেওয়া টাকা গ্রাহককে আপনা থেকেই ফেরত দেওয়া এবং বিলিং ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা।
গ্যাস না পেলে গ্রাহকের কাছ থেকে বিল নেওয়া বন্ধের দাবিও জানানো হয়। পাশাপাশি গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নীতি, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের কথা বলা হয়। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতা তদন্ত করে ক্ষতির হিসাব প্রকাশ, আবার চালুর সময়সূচি ঘোষণা এবং বিকল্প জ্বালানির জোগান নিশ্চিতে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ারও আহ্বান জানায় জোট।
সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ, স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ কেটে দেওয়া এবং পুরোনো পাইপলাইন মেরামত করে চালু ক্ষেত্রগুলো থেকেই বাড়তি গ্যাস পাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছে জোটটি। শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, এলপিজি-সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ এবং জ্বালানি খাতের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও রয়েছে তালিকায়।
অবস্থান কর্মসূচিতে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি; জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।






