ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা, তাকে শারীরিক হেনস্তা এবং সঙ্গে থাকা নারী ও শিশুর গায়ে আঘাতের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের দায়ী করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে যৌথ বিবৃতি দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
বিবৃতিতে এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, দেশে গণহত্যা ও নিপীড়ন চালিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতনের পর পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী এখন বিদেশে বসে জুলাই যোদ্ধাদের ওপর সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। পরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী ও জুলাই যোদ্ধা বাঁধনের ওপর হামলা দেখিয়ে দিল, দলটির হিংস্র মানসিকতা একটুও বদলায়নি—দাবি করেন তারা।
নেতাদের অভিযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভেনিসে উপস্থিতির মধ্যেই তার ঘনিষ্ঠরা এ হামলা চালায়। জয়ের সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা কর্মীরাই বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে বলে দাবি করা হয়। বিদেশে থাকা দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি মদদ ও উসকানিতেই এসব হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে এনসিপি।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও এমন সহিংসতা আবার প্রমাণ করল, ফ্যাসিবাদী এই গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক কোনো পুনর্মিলন সম্ভব নয় এবং বিদেশেও যারা জুলাই যোদ্ধাদের রক্ত ঝরায়, তাদের জায়গা আদালতের কাঠগড়ায়। জুলাই যোদ্ধাদের জাতীয় সম্পদ উল্লেখ করে তাদের ওপর হামলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানায় দলটি।
সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে এনসিপির দাবি, ইতালির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ভিসা বাতিল ও বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিদেশে থাকা প্রবাসী বিপ্লবী কর্মী, জুলাই যোদ্ধা ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তায় জনগণের করে চলা দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলেছে দলটি।
জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না করলে বর্তমান সরকারকে কঠিন জবাব দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে দেশ-বিদেশের সব মঞ্চে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার ঘোষণা দেয় এনসিপি।
এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের লাইভে বাঁধন অভিযোগ করেন, ইতালির মেস্ত্রে শহরে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গেলে অনেক বাঙালি তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং তার গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারেন। এ ঘটনায় তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।






