সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলায় নিহত প্রবাসী আহমদ আলী (সালেহ আহমদ) নিজ গ্রামে শায়িত হয়েছেন। সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৫টায় বড়লেখার গাজিটেকা শাহী ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

মরদেহ প্রথমে ঢাকায় এলে তা গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ও প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। পরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে কফিন সিলেটের এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে পৌঁছালে দুপুর ১২টায় তা বুঝে নিয়ে বিকেল ৩টায় গ্রামে ফেরেন স্বজনেরা। এ সময় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ) উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরিফুল বলেন, দ্রুত মরদেহ দেশে আনা গেছে এবং পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়া হবে; জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এরই মধ্যে সহযোগিতা করেছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ সচিব নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়া জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা হবে, দরকারে চার্টার্ড বিমানেও।

নিহতের মামাতো ভাই কামাল আহমদ জানান, প্রায় ২৭ বছর প্রবাসে থাকা আহমদ আলীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, তার এক ছেলে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। মরদেহ দেশে আনায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ হাজারো মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

বড়লেখার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের আহমদ আলী ওরফে সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন দুবাইয়ে ডেলিভারি ম্যানের কাজ করতেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, শনিবার ইফতারের পর সন্ধ্যায় কাজে বেরিয়ে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান তিনি। পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী এবং তিন ছেলে ও এক মেয়ে।