দেশ আর প্রবাসের ঈদের আমেজে যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, তা প্রথম টের পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল নিউইয়র্কে—নিজের স্মৃতিচারণে এমনটাই তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক বাংলাদেশি। লঙ আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিষয়ে মাস্টার্স করতে ১৯৯৭ সালের জানুয়ারিতে, স্প্রিং সেমিস্টারে নিউইয়র্কে যান তিনি; কয়েক বন্ধু মিলে বাসা নেন ব্রুকলিনের ডাহিল রোডে।
পরের মাসেই ছিল ঈদুল ফিতর। জামাত হয় চার্চ-ম্যাগডোনাল্ড এভিনিউর ওপর—পুলিশ বিশাল রাস্তাটি বন্ধ করে রাখে, বরফ-শীতল পথে বিছানো হয় নীল পলিথিন। বাঙালি-অধ্যুষিত সেই এলাকায় পুরো ব্লক মানুষে ভরে যায়, রাস্তার দুই পাশে ছিল বাংলাদেশিদের গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট; ঠান্ডার মধ্যেও নামাজ পড়তে পেরে ভালো লেগেছিল তার।
কয়েক বছর পর দেশে ফিরে অনেক দিন বাদে যশোরের বাড়িতে ঈদ করেন তিনি। বাবা বেঁচে থাকতে তাদের নিয়ে যশোর ঈদগাহ ময়দানে নামাজে যেতেন; হৈ-হুল্লোড় করে গোসল, নতুন জামা, বাবার পাশে মাঠের সামনে বসা আর মায়ের হাতের সেমাই-পোলাও-মাংসের সেই ছোটবেলার ঈদ ফুরিয়ে গেলে মন খারাপ হতো।
সেবার বাবাকে ছাড়া প্রথম ঈদ। ভাইদের সঙ্গে কারবালা মসজিদে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়, ততক্ষণে নামাজ শুরু, ভেতরে-বাইরে কোথাও জায়গা নেই। খানিক আগের বৃষ্টিতে ভেজা, কাদামাখা ঘাসের ওপরই দাঁড়িয়ে যান তিনি; কাদামাটিতে কপাল ঠেকানোর মুহূর্তে পাশের কবরস্থানে শুয়ে থাকা বাবার কথা ভেবে এক অপার্থিব অনুভূতিতে মন কেঁদে ওঠে তার।
২০০২ সালে তিনি চলে যান ফ্লোরিডার ছোট, গোছানো এক শহরে, যেখানে রাস্তায় ভিড় নেই, বাসাভাড়াও সহনীয়, বাংলাদেশি কম হলেও তারা ভীষণ আন্তরিক। নব্বইয়ের দশকে সেখানে আসা মানুষেরা একটি চার্চ কিনে মসজিদে রূপান্তর করেন, যাকে ঘিরে একাত্ম স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়; আশপাশের জমিতে লাইব্রেরি, ইসলামী স্কুল, ইনডোর খেলার জায়গা ও বড় মসজিদ গড়ার পরিকল্পনা আছে।
মসজিদে শিশু-কিশোর ও বড়দের জন্য নিয়মিত কোরআন শিক্ষা হয়, পেছনের আরেক ভবন নারীদের নামাজ ও শিশুদের ক্লাসের জন্য রাখা। রোজায় আগে কানাডা বা ইংল্যান্ড থেকে দুজন হাফেজ আসতেন, এখন আমেরিকায় পড়াশোনা শেষ করা হাফেজ তারাবিতে ইমামতি করেন; খেজুর-পানিতে ইফতারের পর মাগরিব শেষে রাতের খাবার দেওয়া হয়।
ঈদে সেখানে দুটি জামাত হয়, স্বেচ্ছাসেবকেরা যান চলাচল সামলান, পাশের দুটি চার্চ তাদের জায়গায় গাড়ি রাখতে দেয়। শিশুদের জন্য থাকে নাশতা, উপহার, বাউন্স হাউস ও খেলাধুলা, আর দিনের শেষে ঈদ ডিনার।






