যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেটের অরেঞ্জ কাউন্টির স্কচটাউনে বাংলাদেশি কমিউনিটির কবরস্থান ‘স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রি’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে। দি গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএর উদ্যোগে ১২৬ একর জমিতে মুসলিম ধর্মীয় রীতি মেনে গড়ে তোলা এ কবরস্থানে পর্যায়ক্রমে এক লাখের বেশি কবরের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, করোনা মহামারির সময় মুসলিমদের কবর নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, তা থেকেই বাংলাদেশিদের মালিকানায় স্থায়ী কবরস্থান গড়ার চিন্তা আসে। সে লক্ষ্যে স্কচটাউনের ২৪০ কনার্স রোডে ১২৬ একর জমি নগদ টাকায় কেনা হয় ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর, এরপর শুরু হয় অবকাঠামো নির্মাণ।

গত শনিবার (২০ জুন) পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম দাফন হয় মরহুম এস এম আমানতের, যিনি দি গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএর উপদেষ্টা ছিলেন। জানাজা ও দাফনের পর সেদিন একটি সুধী সমাবেশও হয়, তাতে নিউইয়র্ক সিটি, বাফেলোসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কমিউনিটি নেতা, সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কবরের জায়গা কেনা ব্যক্তিরা অংশ নেন। আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন শুরু হয়েছে বুধবার (১ জুলাই) থেকে।

প্রথম ধাপে ২০ হাজার কবরের জায়গা তৈরি করা হয়েছে, যা এরই মধ্যে ৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী আগস্টে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪২ হাজার কবর তৈরির কাজ শুরু হবে, এ ছাড়া দুটি আধুনিক ফিউনারেল হোম নির্মাণের পরিকল্পনাও আছে।

সংগঠনের সেক্রেটারি এএসএম মাইন উদ্দিন পিন্টু জানান, নোয়াখালীর মানুষ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যেকোনো বাংলাদেশি ও মুসলমান এখানে দাফনের সুযোগ পাবেন। সভাপতি জাহিদ মিন্টু জানান, সরকারি সব অনুমোদন নিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এখানে মসজিদ, প্রশাসনিক ভবন, পূর্ণাঙ্গ ফিউনারেল হোম এবং নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা বিশ্রামাগার তৈরি হবে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত সেমিট্রির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের দাফনসেবা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

দাফন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সহ-কোষাধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো প্রস্তুত, যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক কবরস্থানের আদলেই দাফন পরিচালিত হবে। সুধী সমাবেশের বক্তারা উদ্যোগটিকে সময়োপযোগী ও ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন।