যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে মো. রাজু নামের এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ অপর ব্যক্তিও বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাউনসভিলে রকাওয়ে অ্যাভিনিউ ও নিউপোর্ট স্ট্রিটের কাছাকাছি ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজু মারা যান; পায়ে গুলি লাগা অপরজন চিকিৎসা নিয়ে এখন সুস্থ।

রাজুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার কংশনগরে, যা আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। যুক্তরাষ্ট্রের বাংলা সংবাদমাধ্যম ঠিকানা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বরাতে জানায়, এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে আচমকা গুলি ছোড়েন; এতে কর্মী রাজুর বুকে আর সেখানে থাকা অপর বাংলাদেশির পায়ে গুলি লাগে।

রাজুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম; তিনি জানান, গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের ছায়া। মরদেহ দেশে ফেরাতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছে পরিবার।

নিউইয়র্কের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ জানায়, রোববার গভীর রাতে ব্রুকলিনে কাজ করার সময় গুলিতে প্রাণ হারান একটি ফাস্টফুড দোকানের কর্মী। পুলিশের বরাতে পত্রিকাটি লিখেছে, মধ্যরাতের ঠিক পরে রেস্তোরাঁর ভেতরেই ৪৪ বছরের ওই কর্মীর মাথায় এবং ৩৯ বছরের আরেকজনের ডান পায়ে গুলি লাগে; ঘটনাস্থলের কয়েক ব্লক দূরে ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে প্রথমজন মারা যান, অন্যজন আশঙ্কামুক্ত। একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদন বলছে, নিহত ব্যক্তি রেস্তোরাঁটির কর্মী ছিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কেউ গ্রেপ্তার হননি।

ব্রুকলিনে সহিংস এক সপ্তাহের পরপরই এ হত্যাকাণ্ড। এর আগে শুক্রবার রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ইস্ট নিউইয়র্কে নাইচার পিংক হাউসের বাইরে গুলিতে নিহত হন ২৭ বছরের গুরদীপ সিং; পুলিশের ভাষ্য, পিৎজা পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে স্ট্যানলি অ্যাভিনিউ ও ক্রিসেন্ট স্ট্রিটের কাছে এক বিতণ্ডার মধ্যে তার বুকে ও পেটে সাতটি গুলি করে গাড়িতে পালিয়ে যায় হামলাকারী। রোড রেইজ বা সড়কে দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ, হামলাকারী এখনো অধরা।

বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ইস্ট নিউইয়র্কের হাকিমসে মাথায় গুলিতে নিহত হয় ১৭ বছরের অহমীর জর্ডান; জায়গাটি গুরদীপ সিংয়ের হত্যাস্থল থেকে প্রায় দেড় মাইল দূরে। শনিবার পুলিশ দুই সন্দেহভাজনের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করলেও এ ঘটনাতেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।